– শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের মণিরামপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১লা জুন রবিবার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরে তাঁর কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান এবং দেশের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে জিয়াউর রহমান অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিদেশ থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সরঞ্জাম আমদানির ব্যবস্থা করা হয়, যার ফলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে গ্রামীণ উন্নয়নই জাতীয় উন্নয়নের মূলভিত্তি। তাই তিনি কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম এবং উন্নয়ন দর্শন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর জনকল্যাণমুখী চিন্তাধারা জাতির জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের যে ভিত্তি রচিত হয়েছিল, তা দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর আদর্শ ও কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও উন্নয়নের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি