ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার উরখুলিয়া গ্রামে গভীর রাতে একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উরখুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ ও তাঁর পরিবার জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় বসবাস করেন। গত ১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাঁদের গ্রামের বাড়ির বসতঘরে (আব্দুস সালাম মাস্টারের ঘর) আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন নেভানোর আগেই ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, রাতে পানি আনতে গিয়ে তিনি ঘরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। পরে তাঁর চিৎকারে স্বামী, দেবর ও আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে দরজার তালা ভেঙে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম মাস্টারের চাচাতো ভাই চান মিয়া বলেন, “আমার ভাবী আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। আগুনে খাট, তোষক, সিলিং, জানালা এবং পানির ট্যাংকির প্লাস্টিক পাইপ পুড়ে গেছে।”
মেরকুটা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভুক্তভোগী মো. আব্দুস সালাম সরকার অগ্নিসংযোগের পেছনে পূর্ব শত্রুতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “গত রমজান মাসে আমাদের বাড়িতে আমার ফুফাতো ও চাচাতো ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। আমার ধারণা, সেই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মো. কামাল হোসেন সরকার বলেন, “রাত ৩টার দিকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। চাচাতো ভাই ও ভাবী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যেত। আগুনে খাট, তোষক, ঘরের সিলিং ও অন্যান্য আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস গ্রামেরই একটি চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
ভুক্তভোগী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “অগ্নিসংযোগের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}