আজ ২ জুন, ইতালির ৮০তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Festa della Repubblica)। দেশটিতে আজ জাতীয় ও সরকারি ছুটির দিন। ১৯৪৬ সালের এই দিনে ইতালির জনগণ এক ঐতিহাসিক গণভোটের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশকে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক নির্বাচনটিই ছিল ইতালির ইতিহাসের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

ফ্যাসিবাদী ইতিহাস ও মুসোলিনির উত্থান-পতন:
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯২২ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছর ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির (Benito Mussolini) নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। ১৯২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুসোলিনি ধীরে ধীরে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে পালানোর সময় তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়েন এবং নিহত হন।
উন্নয়ন বনাম অধিকার হরণ: একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা:
বেনিতো মুসোলিনির শাসনামলে ইতালিতে বেশ কিছু বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ:
পোনতে দেল্লা লিবেরতা: ইতালির অন্যতম দীর্ঘ এই সেতুটি মুসোলিনির আমলদেই নির্মিত হয়েছিল।
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা: ইতালির সমসাময়িক আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিত্তিও তার সময়েই গড়ে উঠেছিল।
তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো বিশাল উন্নয়নই শেষ পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী শাসককে রক্ষা করতে পারেনি। কারণ বাহ্যিক কিছু উন্নয়ন করলেও তিনি ছিলেন মূলত একজন ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী, অত্যাচারী এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা হরণকারী এক চরম দুর্নীতিবাজ শাসক।
আজকের এই প্রজাতন্ত্র দিবসে ইতালির জনগণ কেবল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনকেই উদযাপন করছে না, বরং ইতিহাস থেকে এই শিক্ষাও স্মরণ করছে যে—জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করে কোনো উন্নয়নই কখনো স্থায়ী বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে his।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}