কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঢাকা-মুরাদনগর সড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আশেক আলি (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে জাহাপুর চকের বাড়ি ইউনিয়ন অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আশেক আলি নিজ বাড়ির সামনে আমগাছের নিচে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তানজিদ নামে এক যুবক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে তাদের ওপর উঠে যায়। আশেক আলির সঙ্গে থাকা আবু মুসা জানান, “আমি দ্রুত সরে যেতে পারলেও আশেক আলি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী মোটরসাইকেল চালক তানজিদকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এলাকাবাসী জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আশেক আলিকে দেবিদ্বার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে আসছে। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
নিহত আশেক আলি মৃত বজলুর রহমান ও মৃত সাবিয়া বেগমের ছেলে। তিনি জাহাপুর চকের বাড়ি ইউনিয়ন অফিসের পাশের এলাকার বাসিন্দা। তার তিন ছেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী, সাজ্জাদ চট্টগ্রামে চাকরি করেন এবং আক্তার হোসেন অন্যত্র অবস্থান করছেন। ঘটনার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নিহতের ছোট ভাই বাবুল জানান, পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তিনি মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। নিউজ লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালক তানজিদের পিতার নাম মমিন। তার বাড়ি মুরাদনগরের ভয়রাঘরি এলাকায়, গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন স্থানে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।