নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেনের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি মাদক কারবারি মো. আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৫ বিকেলে পাহাড়তলী থানাধীন সিডিএ মার্কেটের উত্তর পাশের আব্দুল বারেক রোড এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একদল ব্যক্তি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী মো. সবুজ খানের ওপর হামলা চালায়। হামলায় বাদী গুরুতর আহত হন এবং তার দুটি দাঁত পড়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় অপর ভুক্তভোগীও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায় এবং হামলার একপর্যায়ে বাদীর কাছ থেকে নগদ অর্থসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পাহাড়তলী থানায় দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আলমগীর, রেজাউল করিম, আমিন, সোহেল ওরফে টাংকি সোহেল, আরমান, পায়েল, আব্দুল্লাহ, মুন্নি ও পারভিন আক্তার।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, আলমগীরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, পাহাড়তলী, রেলওয়ে সংলগ্ন এলাকা ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে কোনো চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আদালতে মামলার জামিন শুনানিকালে আলমগীরের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকার এক দোকানদার বলেন, আলমগীরের অনেক ক্ষমতা তার সাথে রয়েছে পাহাড়তলী পুলিশের ভালো সম্পর্ক তাছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনের সাথে এবং বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে রয়েছে আরো সম্পর্ক। যে কারণে তার মাদক ব্যবসা কোন রকমের ধ্বংস হচ্ছে না। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন আলমগীর একজন কুখ্যাত সোর্স ।
এলাকাবাসীর দাবি, মামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।