বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নরসুন্দা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দখল-দূষণমুক্ত করা এবং নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার ৫ জুন নরসুন্দা পাড়ের সৈয়দ নজরুল চত্বরে অ্যাডভোকেট হামিদা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নরসুন্দা নদী রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম বলেন, একসময় নরসুন্দা নদী কিশোরগঞ্জের প্রাণ ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল।
কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আব্দুল গণি বলেন, নদী রক্ষায় শুধু প্রতীকী কর্মসূচি নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। তিনি কাওনা এলাকার বাঁধ অপসারণ, নদী ও সংযুক্ত খাল-বিল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। বাপার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, নদী শুধু পানির উৎস নয়; এটি পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নরসুন্দা নদী রক্ষা করা মানে কিশোরগঞ্জের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। বক্তারা দাবি করেন, হোসেনপুর উপজেলার কাওনা এলাকায় ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত বাঁধ নরসুন্দা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে নদীর নাব্যতা, জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বাপার সহ-সভাপতি শফিক কবীর, আনোয়ার হোসেন, ফিরোজ উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. মাজহারুল ইসলাম ভুইয়া, মাসুদুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল গণি, সাংবাদিক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। সভা শেষে নরসুন্দা নদীসহ জেলার সকল নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।
এদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের ভুরুঙ্গারচর এলাকায় রাস্তার পাশে এক হাজার ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।