কুমিল্লার মুরাদনগরে ভেজাল শিশুখাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার (৮ জুন) উপজেলার ১৫নং নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রং, কেমিক্যাল ও বিভিন্ন ধরনের পাউডার মিশিয়ে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ‘জো জো গ্লাস ড্রিংকস’, ‘আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার্ড ড্রিংকস’, ‘জো জো এডিবল জেল’, অরেঞ্জ, লিচু, স্ট্রবেরি ও ম্যাংগো ফ্লেভারের আইস ললি, কোকোনাট ফ্লেভার্ড গ্লাস ড্রিংকস উৎপাদনে অতিরিক্ত রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে বাদল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
একই অভিযানে বি-বাড়িয়া বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাটার বন, কেক, বিস্কুট, ক্রিম বন, ক্রিম কেক ও ক্রিম রোল উৎপাদনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একজনকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেকারিটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানে বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ও ইন্সপেক্টর আরিফ উদ্দিন, মুরাদনগর থানার এসআই আব্বাস আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।