কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর হাওরে যাত্রীবাহী নৌকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গত ৭ জুন সন্ধ্যায় মিঠামইন নৌঘাট থেকে করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রীবাহী একটি নৌকা রওনা দেয়। পথে হাসানপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময় নৌকাটি থেমে থাকলে ডাকাতরা সুযোগ নেয়।
পরবর্তীতে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নৌকা চলা শুরু করার পরপরই ১০ থেকে ১২ জন মুখোশধারী ডাকাত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে যাত্রীবাহী নৌকাটির গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তারা মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ১৫ জুন নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মিঠামইন থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকিরকে এবং পরে কামরাঙ্গীরচর থেকে জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিঠামইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত পাঁচটি মোবাইল ফোন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় প্রায় ২০টি বল্লম। পুলিশ আরও জানায়, ডাকাত চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।