নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চাপারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের মুখে আরও বেপরোয়া বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ৪২১ টাকা নির্মাণ ব্যয়ের এই প্রকল্পে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের এমন দম্ভোক্তিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Oplus_16908288

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ৮৭,৩১,৪২১ টাকা ব্যয়ে চাপারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ করছে ‘রাতুল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিডিউল না মেনে ১ নম্বরের পরিবর্তে ৩ নম্বর বা তার চেয়েও খারাপ মানের ইট, ইটের খোয়া এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

Oplus_16908288

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান নিম্নমানের কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা এই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করছি। যে ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ভবনের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা চাই সিডিউল অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত করে যেন ভবনের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়।”

Oplus_16908288

এ বিষয়ে রাতুল এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ঠিকাদার রতন মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অত্যন্ত অসংলগ্ন ও দম্ভোক্তিপূর্ণ জবাব দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার রতন মিয়া বলেন, “আমি বারহাট্টার আরও সাত-আটটি স্কুল এভাবেই নির্মাণ করেছি। যা আছে মালামাল, তা দিয়েই কাজ চলমান আছে।” ঠিকাদারের এমন স্বীকারোক্তি ও বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, তবে কি বারহাট্টার অন্য সব বিদ্যালয়েও একই ধরনের নিম্নমানের কাজ হয়েছে?

এদিকে নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম ও ঠিকাদারের বক্তব্যের বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মোঃ আব্দুল বাতেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, “নিম্নমানের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে কাজ না করে, তবে কাজ বন্ধ থাকবে।”

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, ঠিকাদার রতন মিয়ার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের পর শুধু মৌখিক হুঁশিয়ারি যথেষ্ট নয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে চাপারকোনা স্কুলসহ তাঁর নির্মিত আগের সাত-আটটি স্কুলের কাজের মানও খতিয়ে দেখা উচিত এবং অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}