জনসচেতনতার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে হবে দেশের প্রধান সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নগর স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের প্রধান অর্জন, শিক্ষণীয় দিক এবং কৌশলগত পথরেখা নিয়ে ঢাকায় একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে “ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রোজেক্ট (আইইউপিএইচপিএসপি প্রকল্প)”-এর উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তাঁর বক্তব্যে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “নগরবাসী, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা একটি সহনশীল নগর স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে মশাবাহিত রোগ; বিশেষ করে ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া। ইতোমধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বেশ ভালো সাফল্য লাভ করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মশা নিয়ন্ত্রণে থেরাপিউটিক সলিউশন হিসেবে একদিকে যেমন মশা মারার ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, তেমনি প্রিভেনটিভ সলিউশন হিসেবে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার এবং টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং নগর জনস্বাস্থ্যে টেকসই অর্থায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন। কর্মশালায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।