গাইবান্ধার বুক চিরে বয়ে চলা তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া- এই ৫ নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমা স্পর্শ করেনি, কিন্তু গত কয়েক দিনে পানি বাড়া-কমার ওঠানামার মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদীভাঙন। জেলার চার উপজেলা- সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় অন্তত ২৫টি পয়েন্টে চলছে এই ভাঙন, যাতে গত এক সপ্তাহে গৃহহীন হয়েছে আট শতাধিক পরিবার।
শুধু সুন্দরগঞ্জেই তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৫ শতাধিক বসতভিটা। নদীর নির্মম থাবায় হারিয়ে গেছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি আর অসংখ্য গাছপালা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট সংলগ্ন কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুরে ভাঙনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন না। মুহূর্তের মধ্যে বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছগাছালি ও বাঁশঝাড় তলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ এখন আশ্রয় নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে।
একই গ্রামের আসমানী বেগমের কণ্ঠেও একই হতাশা- ভাঙন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গাছপালা কাটার বা বাড়ি সরানোর মতো সময়ও মিলছে না। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার আকুতি জানান তিনি।
ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন চরে গত এক সপ্তাহেই সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে ২ শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েক শ একর আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালা। কিছুদিন আগের কালবৈশাখি ঝড়ের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন বিপর্যয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরবাসী।
তারা দ্রুত ঘরবাড়ি-আসবাব সরিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে অন্য চরে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ও নিচু চরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছে।