উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে তিস্তা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
নদী সংলগ্ন ৫/৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের ওপর। এ ছাড়াও ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার কারনে পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমন বীজতলাসহ রবি ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে এলাকার গবাদিপশু। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বর। এতে করে কোমলমতি শিশুদের পড়ালেখায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।
ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী কৃষক মো. আজিজুল হক বলেন, “টানা বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে আমার বাড়িঘরের ভেতরে হাঁটুসমান পানি। চুলা জ্বলছে না, তাই শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। আমাদের ধান ও সবজির বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক ভুক্তভোগী রহিমা খাতুন জানান, “বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। ত্রাণ বা সাহায্য এখনও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।”
পরিস্থিতি নিয়ে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, “টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে বেলকার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তিস্তা নদী তীরবর্তী হওয়ায় চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের তালিকা করছি এবং দ্রুত তাদের মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
প্রকৃতির এই ভয়াল থাবায় বেলকার মানুষ আজ দিশেহারা। কবে এই পানি নামবে এবং তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন তারা। দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও গবাদিপশুর খাবার সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।