গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুপুরে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হন। পরে গোপালগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
সমাবেশে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, “২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই। রাজনৈতিক মতভেদ যাই থাকুক, মানুষের জীবনহানি কখনো কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তা আমরা প্রহসন বলে মনে করি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় প্রত্যাহার না হলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “গত বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে আমাদের নিরীহ ও নিরপরাধ ভাইদের হত্যার অভিযোগ আমরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। সেই দিনের শোক ও বেদনা এখনো আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। আমরা নিহতদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।”
মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও সংগঠনটির ব্যানারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।