যর্শায় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরির প্রভাব খাটিয়ে এক বৃদ্ধার পৈতৃক জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা এবং প্রতিবাদ করায় খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা আনোয়ারা খাতুন নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কন্যাদহ গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি ভোগদখল করে আসছেন। অতীতেও স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার কথা ভেবে তিনি নিজের জায়গা থেকে কিছুটা অংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার অবশিষ্ট জমির ওপরও নজর দেয় এবং নতুন করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালায়।

​গত ১০ জুন দুপুরে ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন খবর পান, তার চাচাতো ভাই-বোনেরা জোরপূর্বক তার জমির ওপর দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করছেন।তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ না করে উল্টো তাকে নানাভাবে হয়রানি করে এবং খুন-জখমসহ চরম ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রাণভয়ে ওই বৃদ্ধা শেষমেশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

​ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ

​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের একজন ফেরদৌসী খাতুন উপজেলার একটি সরকারি দপ্তরে কর্মরত।তিনি নিজ পদের প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করছেন।

​শুধু জমি দখলেই ক্ষান্ত না হয়ে, মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আনোয়ারা খাতুনের বসতবাড়ি নির্মাণের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় এক প্রতিবেশী দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন বলেন,পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখন গায়ের জোরে রাস্তা বানিয়ে ফেললে আমি আমার জীবনের শেষ সম্বলটুকোও হারিয়ে ফেলব।

​এ বিষয়ে মামলায় উল্লেখিত অভিযুক্ত ফেরদৌসী খাতুনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা তার উপজেলা কার্যালয়ে যান। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে কৌশলে অফিস থেকে সরে পড়েন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ফেরদৌসী খাতুন, আব্দুল্লাহ ও লিটনসহ সংশ্লিষ্টদের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}