ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আদালত পুকুরপাড়ের লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় “নবীনগর সচেতন নাগরিক সমাজ” ব্যানারে আদালত চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি। এতে বক্তব্য রাখেন আবু কামাল খন্দকার, মাহাবুব আলম লিটন, জালাল উদ্দিন মনির, কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, শাহীন রেজা টিটু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, মো. মহসিন মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা।বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি খাসজমি ও পতিত জমি প্রকৃত গরিব, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লিজ দেওয়ার বিধান থাকলেও নবীনগরে আদালত পুকুরপাড়ের লিজ প্রদান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, আলমনগর গ্রামের ঠাকুর সূত্রধরের ছেলে অর্জিত সূত্রধর নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করে আদালত পুকুরপাড়ের একটি অংশের লিজ নিয়েছেন। লিজের আবেদনে তিনি নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে তিনি নবীনগরের একজন প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার বড় একটি ফার্নিচার কারখানা, একটি শোরুম, একাধিক বাড়ি রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসেও ছিলেন বলে বক্তারা দাবি করেন।
প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, শুধু বর্তমান লিজ নয়, আদালত পুকুরের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের বিভিন্ন অংশও এমন ব্যক্তিদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে, যারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত। এতে সরকারি সম্পদ প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পরিবর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে চলে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তাদের মতে, আদালত চত্বরে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ফলে আদালতের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের চলাচল, আদালতের শৃঙ্খলা এবং সরকারি স্থাপনার স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে আদালত পুকুরপাড়ের অতীত ও বর্তমানের সব লিজ বাতিল, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং আদালত এলাকার পরিবেশ ও নান্দনিকতা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্যএ বিষয়ে অভিযুক্ত অর্জিত সূত্রধর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম মেনেই লিজ নিয়েছি। গ্রামে আমার একটি পৈত্রিক বাড়ি এবং ভাড়ায় পরিচালিত ছোট একটি দোকান রয়েছে, তবে সেটি বাণিজ্যিক এলাকায় নয়। জীবিকার তাগিদে কিছুদিন বিদেশে ছিলাম, কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে পারিনি। তাই পৌর সদরের বাণিজ্যিক এলাকায় একটি দোকান লিজ নিয়েছি।”