ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে একই সঙ্গে সরকারের দুটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনারারিয়াম গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াকুব আলী একদিকে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে উপজেলার নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত অনারারিয়াম বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি সরকারি বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে অনারারিয়াম গ্রহণ করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

সম্প্রতি মাউশি’র জারি করা এক আদেশে একথা বলা হয়েছে।এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীর একই সময়ে দুটি লাভজনক পদ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে তাঁকে এমপিও বেতন-ভাতা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হিসেবে প্রাপ্য সম্মানী যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে।

দেখাগেছে, গাজিরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী নতুন ডাংগী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন তুলছেও গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাতাও নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইয়াকুব আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলী অভিযোগের বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, লিখিত অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}