কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পুকুরের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কাতারপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা-মাসহ একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত বৃদ্ধ দম্পতি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দৈয়ারা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) আহত পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৈয়ারা গ্রামের শরীফ (৩০), হোসেন (২৫), আকতার (৪৫), বিল্লাল ভূঁইয়া (৫০)সহ একদল লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারের অভিযোগ, পুকুরের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই মঙ্গলবার বিকেলে একদল লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

আহতরা হলেন দৈয়ারা গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৭৫), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৭০), কাতারপ্রবাসী ছোট ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫০), মেয়ে হাজেরা বেগম (৪৫) ও বড় ছেলে বাবুল (৫৫)।

হামলায় জয়নাল আবেদীনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এছাড়া হাজেরা বেগমের হাতে এবং বাবুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রবীণ দম্পতি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

কাতারপ্রবাসী বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো রকমে দোতলার ছাদে উঠে গেট বন্ধ করে নিজেকে রক্ষা করি। আমাকে না পেয়ে তারা আমার বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই ও বোনের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

“অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।”

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}