শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ব্রিজ যখন গলার কাঁটাঃ ‎মণিরামপুরে ৩ বছরে আলোর মুখ দেখেনি ৩ কোটি টাকার সেতু!

মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ   |   মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ব্রিজ যখন গলার কাঁটাঃ ‎মণিরামপুরে ৩ বছরে আলোর মুখ দেখেনি ৩ কোটি টাকার সেতু!
২৭

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রকৌশলী শাখার অব্যবস্থাপনা অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অবহেলায় জনগনের ভোগান্তি লাঘবে সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মুখ থুবড়ে পড়াতে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সেতুটি ৩ বছরেও কাজ শেষ না হওয়াতে কয়েক গ্রামের মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে! স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের দাবী,যে শ্রমীকের দল কাজ করতে আসে তারা ১/২ মাস কাজ করেই ফেলে রেখে চলে যায়,আবার নতুন এক শ্রমীক দলের লোকজন এসে সেখান থেকেই আবার শুরু করে!

এভাবেই চলছে ২০২৪ সাল হতে ২০২৬ সালের চলতি এই জুলাই মাস পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দাবী জলাবদ্ধতা ও শ্রমীক সংকটে শেষ হয়েও কাজের শেষ নামাতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

‎চলতি এ প্রতিবেদনে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর টু হাজিরহাট সড়কের ধর্মতলা নামক স্থানে নির্মানাধীন সেতুর সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য যাতায়ত ব্যবস্থায় বর্তমানে তা গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে।
‎মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী শাখার তথ্য মোতাবেক,নির্ধারিত শিডিউলের টেন্ডারের মাধ্যমে সাতক্ষীরার মোঃ ইকবাল জোমার্দার নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ০১-০৫-২৪ইং তারিখে কাজ শুরু এবং ২৭-০৩-২৫ইং তারিখের মধ্য ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে লিখিতকারে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সেতুটির নির্মান কাজ শুরু করে স্থানীয় ঠিকাদার জৈনক আব্দুল খালেক।

যার নির্ধারিত চুক্তিমূল্য চুক্তিমূল্য ২,৭২,৭৪,৯৯২ (দুই কোটি বাহাত্তর লক্ষ নয়শত বিরানব্বই) টাকা, প্রায় ৩ কোটি। প্রথম থেকেই সেতুটির নির্মান কাজে গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নেহালপুর হতে হাজিরহাট-অভয়নগরের একমাত্র সড়কের ধর্মতলা নামক স্থানের এ সেতুটি দীর্ঘদিন যাবত মুখ থুবড়ে পড়াতে মণিরামপুরের হাজিরহাট, পাঁচকাটিয়া, ধর্মতলা,ভুলবাড়িয়া,পাড়িয়ালি,পদ্মনাথপুর, পোড়াডাঙ্গা,বাহাদুরপুর সহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে পারাপার করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।

‎ভুক্তভোগীদের দাবী ৩টি বছর পার হলেও সেতুটির নির্মান কাজ ৪০ শতাংশ হয়েছে গত ১বছর হলো।এর আগে ২টি বছর গেছে দূর্বিষহ অবস্থায়। যেখানে নাম মাত্র একটি সরু পায়ে হাটা রাস্তা তৈরি করলেও সেটা দিয়ে যাতায়ত খুবই কষ্টের। আর যদি সামান্য বৃষ্টি হয় তাহলে তো পায়ে হেটেও পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের যাতায়তে বিড়ম্বনা আর ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পন্য সামগ্রি বহনে জটিলতা,অত্র এলাকায় বেশির ভাগ কৃষকেরা মাছের চাষে সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরও মাছের আড়তে পৌছাতে ৮/১০ কিঃমিঃ পথ ঘুরে মণিরামপুর বা অভয়নগরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যায়ে পাঠানো লাগে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় আশপাশের খেটে খাওয়া জনসাধারণের। দৈনন্দিন কাজে যে কোন বাজারে সদয় পাতি সহকারে তাদের ফিরতে হয় এ সেতুটি দিয়ে। কয়েকদিন আগেই সেতুর পাশে পায়ে হাটা রাস্তা পারাপারের সময় বাইসাইকেল সহ স্থানীয় এক ব্যাক্তি পাশের খালে পড়ে আহত হন ও তার ক্রয়কৃত সমস্তকিছুই নষ্ট হয়ে যায় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী নিজেই।

‎এ বিষয়ে কথা হলে নবাগত মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইয়াকুব আলী জানান, ব্রিজটির সার্টারিং এর কাজ শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে জায়গাটিতে পানি জমে থাকায় কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও সরেজমিনে যশোর জেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) নির্মানাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেছে বলে চলতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এ কর্মকর্তা।
‎এদিকে জলাবদ্ধতার কারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে জলাবদ্ধতার রেকর্ড হিসাব করেই তো সেতুটির নির্মানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলজিইডি হতে ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

তাছাড়াও তিন বছরে তো ৩৬ মাসই জলাবদ্ধতা ছিলোনা,তাহলে এখন কেনো জলাবদ্ধতা দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন সবাই! এমনটাই দাবী স্থানীয় জনসাধারণ ও মুখ থুবড়ে পড়া সেতুটির সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com