আসাদুজ্জামান তালুকদার | সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান। এই নদীটির স্বচ্ছ জলরাশি ও অপরূপ সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমোহিত করে। একসমশ নদীতে পাওয়া যেত মহাশোল মাছসহ শতাধিক প্রজাতির মাছ। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত হাজারো শ্যালো মেশিন থেকে নির্গত পোড়া মবিল ও তেল নদীর পানিতে মিশে মারাত্মকভাবে দূষিত করতো নদীর পানি। ফলে নদীটির সৌন্দর্য যেমন বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল পাশাপাশি মহাশোলসহ বিলুপ্ত হয়েছে শতাধিক প্রজাতির দেশিয় মাছ।
অপরিকল্পিত ও আইনবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনে নদী ও নদী এলাকায় অবস্থিত তেরীবাজার, মুক্তারপাড়া, ভবানীপুর, ফারাংপাড়া, কামারখালি, কুলাগড়া, ডাকুমারা, শিবগঞ্জ, গাঁওকান্দিয়া, গোরাইত এবং বিরিশিরি নামক গ্রামসমূহ ভাঙ্গনসহ বিভিন্ন রকম বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছিল। দিন রাত খননযন্ত্র ও ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দ এবং বাতাসে মিশে থাকা বালু কণা মানুষের শ্বাসকষ্ট ও শ্রবণ সমস্যা বৃদ্ধি করছিল। ভয়ংকর বায়ু দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল চারপাশের এলাকা। প্রতিদিন চার হাজারেরও বেশী ভেজা বালুবাহী ট্রাক নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করতো বহুসংখ্যক বহিরাগত পরিবহন শ্রমিক।
এতে এলাকার তরুণী ও নারীসহ লাখো মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, ভেঙ্গে পড়েছিল এলাকার সামাজিক সুরক্ষাবলয়। বেপরোয়া বালু উত্তোলনে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছিল মারাত্মকভাবে। এসব পরিস্থিতি থেকে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে পাচ্ছে দূর্গাপুর। সাম্প্রতিক সময়ে দূর্গাপুরে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রাণখুলে শ্বাস নিচ্ছে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা সহ দেশবিদেশ থেকে আগত পর্যটকরা। পাশাপাশি এখন পাখিদের কলরব শুনা যায় বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুরের বাসিন্দারা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com