এস এম নওশের | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এক অস্থির ও অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। বিশেষত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিমান হামলা, পাল্টা জবাব—এসব কিছু এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যকার বিষয় নয়, বরং এটি গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা কে কতটা শক্তিশালী, কে কয়টি যুদ্ধবিমান ফেলে দিতে পারে, কে কতজন সৈন্য হারিয়েছে—এই হিসাব না কষে আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবো। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা: আপসহীন অবস্থান জরুরি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোনো একক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
আমরা যদি এই প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজন, দলীয় বিভক্তি, সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ কিংবা আদর্শগত পার্থক্যকে সামনে নিয়ে আসি, তাহলে আমরা নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলবো। এই মুহূর্তে প্রয়োজন সর্বস্তরে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা—একটি ঐক্য, যা দলমত, ধর্ম, জাতি কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য যেকোনো দল—সবাইকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আদিবাসী—সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের হাতে হাত রাখতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান: নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। প্রতিটি সীমান্ত চৌকিতে পাহারা ও নজরদারি বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা আরও সক্রিয় ও আধুনিক করতে হবে।
দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণকে আতঙ্কিত না করতে পারে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। জনগণের করণীয়: আত্মসমর্পণ নয়, আত্মসচেতনতা শুধু সরকার নয়, জনগণকেও ভূমিকা রাখতে হবে। এই সংকটকালে আমাদের সবাইকে সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনো গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্যে কান না দিয়ে বরং সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। গুজব ছড়ানো, বিদ্বেষমূলক পোস্ট দেওয়া কিংবা উস্কানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জাতীয় ঐক্য—এটি বিনষ্ট হলে কেউ রক্ষা পাবে না। শেষ কথা: আজই সময়, একসাথে দাঁড়ানোর রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ হতে পারে না। আমাদের উচিত আজই, এক্ষুনি, একতাবদ্ধ হওয়া। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো দলে ভাগ হওয়া চলবে না। আজ যদি আমরা জাতি হিসেবে একত্রিত না হই, তাহলে কাল অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। সবার আগে দেশ নইলে সব শেষ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com