শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলাচং চৌধুরী পাড়ায় একটি পুকুরে ইচ্ছাকৃতভাবে গোমূত্র ও গোয়ালঘরের বর্জ্য ফেলে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির সত্তর মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মাছচাষি ও শিবপুর ইউনিয়নের কনিকারা গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির।সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চৌধুরী পাড়ার পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে পত্তনে নেওয়া ওই পুকুরে সফলভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী বাড়ির সত্তর মিয়া তার গোয়ালে থাকা একাধিক গরুর মূত্র ও অন্যান্য বর্জ্য কোনো ধরনের পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি পুকুরে ফেলছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রতিদিন নিয়মিতভাবে গোমূত্র ও বর্জ্য পুকুরে ফেলার কারণে পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে গেছে। পানিতে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে মাছ মারা ভেসে উঠছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি আরও বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবো।”তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সত্তর মিয়াকে সতর্ক ও নিষেধ করা হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না।পুকুর সংশ্লিষ্টরা জানান, এলাকাবাসীও কয়েকবার সত্তর মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গোমূত্র ও বর্জ্য পুকুরে না ফেলার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তিনি কারও কথা না শুনে আগের মতোই বর্জ্য ফেলছেন। ফলে বারবার মাছ মারা গিয়ে হুমায়ুন কবিরের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।এদিকে পুকুরে ভাসমান মৃত মাছ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।নবীনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আক্কাস আলী বলেন, “পুকুরে গোমূত্র ও বর্জ্য ফেলা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সত্তর মিয়ার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত পুকুরে গোয়ালঘরের বর্জ্য ফেলা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com