শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

অনলাইনে “অতিরঞ্জিত আয়” দেখানোর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত

আসাদুজ্জামান তালুকদার:   |   সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অনলাইনে “অতিরঞ্জিত আয়” দেখানোর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত
৫৩

ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত প্রসারের ফলে বাংলাদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা আশ্চর্যজনক হারে বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা চোখে পড়ছে—অবৈধ অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়। কীভাবে ঘটছে এই অর্থপাচার? অর্থনীতিবিদ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন— ভুয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইডি: অনেকে ভুয়া নামে ইউটিউব বা ফেসবুক পেজ খুলে দেখানো আয়ের বিপরীতে বিদেশ থেকে টাকা পাচ্ছেন।

অতিরঞ্জিত ইনকাম দেখানো: প্রকৃত আয়ের চেয়ে অনেক বেশি ডলার ইনকাম দেখিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে কালো টাকা বৈধভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মিডলম্যান সিন্ডিকেট: কিছু এজেন্সি বা মিডলম্যান ভুয়া কনটেন্ট প্রমোশন দেখিয়ে অর্থপাচারকারীদের টাকা সাদা করতে সহযোগিতা করছে। অ্যাড রেভিনিউর ছদ্মবেশে টাকা প্রবাহ: অবৈধ অর্থকে ইউটিউব/ফেসবুক অ্যাড রেভিনিউ হিসেবে দেখিয়ে বৈধ করা হচ্ছে। ঝুঁকি ও শঙ্কা কালো টাকা বৈধ হওয়ায় প্রকৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। অনলাইনে “অতিরঞ্জিত আয়” দেখানোর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নজরদারির তালিকায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয় এখন অনেকের কাছে নিরাপদ ছদ্মবেশ।

কারণ সরকার ডিজিটাল আয়ে উৎসাহিত করছে, ফলে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ পাচ্ছে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী।” সাইবার গবেষকরা মনে করছেন, কঠোর মনিটরিং ছাড়া এই প্রক্রিয়া ঠেকানো সম্ভব নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করা জরুরি, যাতে প্রকৃত আয়কারীরা স্বীকৃতি পান এবং ভুয়া আয়ের নামে অর্থপাচারকারীরা ধরা পড়ে। প্রভাব প্রকৃত ক্রিয়েটররা হতাশ হচ্ছেন। তরুণরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভুয়া ইনকামের গল্পে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং ঝুঁকি বাড়ছে। করণীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ট্যাক্স ফাইল ও আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসা অর্থের অডিটিং ব্যবস্থা কঠোর করা। ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তে ডিজিটাল মনিটরিং সেল গঠন করা। প্রকৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সরকারি স্বীকৃতি/লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা। কনটেন্ট ক্রিয়েশন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খাত। তবে এর ছদ্মবেশে কালো টাকা সাদা করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একদিকে ডিজিটাল অর্থনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে, অন্যদিকে দেশ আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ ঝুঁকির মুখে পড়বে। লেখক: আসাদুজ্জামান তালুকদার  সাংবাদিক, কবি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com