আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মওলানা ভাসানী সেতুর ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। টানা এক সপ্তাহ কাজ করে ল্যাম্পপোস্টের চুরি যাওয়া তার পুনঃসংযোগ দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেতুর দুই প্রান্ত ও সংযোগ আলোকিত হয়ে উঠেছে। নির্বিঘ্নে রাতে চলাচল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত সেতুর দুই পারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, উদ্বোধনের পরদিন ল্যাম্পপোস্টে সংযুক্ত প্রায় ৩১০ মিটার বৈদ্যুতিক কেবল চুরি হয়। পুনরায় তার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। ত্রুটিজনিত কারণে ৪৫টি ল্যাম্পপোস্টে এখনও আলো জ্বালানো সম্ভব হয়নি। কাজ চলছে, অল্প সময়ের মধ্যে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা হবে।
২০ আগস্ট খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর-চিলমারি তিস্তা নদীর ওপর মওলানা ভাসানী সেতু। পরদিন চুরি হয় সেতুর ল্যাম্পপোস্টের তার। এর পর থেকে অন্ধকারে ছিল সেতুটি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেতুর হরিপুর এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। রংপুর আরআরএফ-এর ১৫ জন পুলিশ সদস্য সেতুর নিরাপত্তা রক্ষায় দিনরাত টহল দিচ্ছেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসএএস-এর নির্বাহী পরিচালক এবিএম নূরুল আকতার মজনু বলেন, ‘উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটি রাতে অন্ধকারে ছিল। চুরি-ছিনতাইয়ের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন আলো জ্বলছে। দুই পারের দোকানপাটগুলো সারা রাত খোলা থাকছে। আমরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছি।’
সেতুর নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত টহল পুলিশের ইনচার্জ এএসআই মো. মামুন মিয়া বলেন, রাতে টহল দিতে আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বালায় সেতু এলাকার রাতের অবস্থান দিনের মতো হয়েছে।
১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডির অধীনে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। সেতুতে মোট ৩১টি স্প্যান রয়েছে। সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনসহ প্রকল্পে প্রায় ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক করা হয়েছে ৮৬ কিলোমিটার।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com