শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: টেকসই ভবিষ্যতের অঙ্গীকার- মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)

ডেক্স রিপোর্ট :   |   শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: টেকসই ভবিষ্যতের অঙ্গীকার- মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)
৫১

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এবং এশিয়ান গ্রীন অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তরুণ সংগঠক মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)।

প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৭২ সালে ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব পরিবেশ দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। বর্তমানে এটি পরিবেশ সুরক্ষায় জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু ও পানি দূষণ, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং প্লাস্টিক দূষণের মতো বহুমাত্রিক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, পরিবেশগত অবক্ষয় রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে মানবসভ্যতা আরও বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি এবং সীমিত সম্পদের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ দেশের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তীব্র তাপপ্রবাহ দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে চরম আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতজনিত ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বৃক্ষরোপণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছোট ছোট উদ্যোগও সামগ্রিকভাবে পরিবেশ রক্ষায় বড় অবদান রাখতে সক্ষম।

তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম শক্তি। শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক সচেতনতা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ আজ সময়ের দাবি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আসুন, আমরা সবাই পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও টেকসই পৃথিবী রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার করি। পরিবেশ রক্ষাই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রত্যয়।

মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)
বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল)
নির্বাহী পরিচালক,
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com