মিলন হুসাইন নোবিপ্রবি প্রতিনিধি | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে মাত্র তিন বছর মেয়াদি স্টুডেন্ট আইডি কার্ড। এর ফলে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির ক্লাস শুরু করেন ২০২২ সালের ২৮ মার্চ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত স্টুডেন্ট আইডি কার্ডে মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ফলে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রির বিপরীতে শিক্ষার্থীরা পান মাত্র তিন বছর তিন মাস মেয়াদি আইডি কার্ড।
ডিগ্রি শেষ হওয়ার আগেই আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ব্যাংক হিসাব খোলা, বৃত্তির আবেদন, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ আইডি কার্ড গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে বিভাগ থেকে প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
প্রত্যায়নপত্র নিতে প্রতিবার শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা।
একই সমস্যার সম্মুখীন হবেন ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও। তাদের ক্লাস শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে অনুযায়ী তাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ থাকার কথা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের জুনে।
দুই শিক্ষাবর্ষ মিলিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোমেনুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে আমাদের পরিচয়হীন অবস্থায় ক্যাম্পাসে থাকতে হচ্ছে। আইডি কার্ড অনুযায়ী আমাদের মেয়াদ প্রায় ছয় মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে, অথচ এখনো আমরা স্নাতক ডিগ্রি শেষ করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি-দ্রুত আইডি কার্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন কার্ড প্রদান করা হোক।”
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন,
“আমরা এখনো তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, অথচ কয়েক মাস পরেই আমাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে প্রত্যায়নপত্রের জন্য আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। যেকোনো কাজে গেলেই পরিচয়ের জন্য ২০০ টাকা দিতে হবে।”
এ বিষয়ে শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, “চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সের ক্ষেত্রে সাধারণত চার বছর মেয়াদের আইডি কার্ড দেওয়া হয়। যদি তিন বছর মেয়াদের কার্ড দিয়ে থাকে, তবে তা কর্তৃপক্ষের ভুল। সে ক্ষেত্রে নতুন আইডি কার্ড প্রদান করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।”
সাইবার সেন্টারের সহকারী পরিচালক ও ইউনিট হেড সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসেন বলেন,
“আমরা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি। সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কোর্স ডিউরেশন অনুযায়ী চার বছর ছয় মাস মেয়াদের আইডি কার্ড প্রদান করা হবে।”
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, “আইসিটি সেল বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন-চার বছর মেয়াদি একটি স্নাতক কোর্সে কীভাবে তিন বছর মেয়াদের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেওয়া হলো? প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রত্যায়নপত্রের অর্থ আদায় অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন তারা। দ্রুত বিনা খরচে নতুন আইডি কার্ড ইস্যুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com