আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদ আবারও ভাঙন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। নদটির ডান তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনাল এখন ভাঙনের হুমকিতে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই মাস আগে হঠাৎ করেই নদের ভাঙন শুরু হয়। প্রথম দফায় টার্মিনাল এলাকার প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কয়েক দিন আগে আবারও প্রায় ২০ মিটার এলাকা ভেঙে পড়ে ব্রহ্মপুত্রে। এতে করে টার্মিনাল এলাকা এবং আশপাশের দোকানপাট, গুদামঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ে। নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কায় টার্মিনাল ভবনসহ আশপাশের শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ঘাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার আগেই যেন কোনোভাবে ভাঙন না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত আছেন। ইতিমধ্যে ডিজাইন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশা করছি দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বালাসী ফেরিঘাটটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ পথ। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ এলাকায় দুটি আধুনিক ফেরি টার্মিনাল নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২১ সালে। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভাঙনের হুমকি এই অবকাঠামোকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ঘাট এলাকার কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিনই নদ একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। তাদের অনেকেই দোকান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে স্থায়ী ভবন ও অবকাঠামো সরানো সম্ভব নয়। তাই দ্রুত নদ তীররক্ষা কাজ শুরু না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোত আরও তীব্র হয়। তখন ভাঙন প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনালের উজান ও ভাটিতে জরুরি ভিত্তিতে নদী তীর সংরক্ষণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিবেন। তা না হলে বর্ষা এলে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রটি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com