শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ঈদুল ফিতরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা: ঈদ, সম্প্রীতি ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা

মনিরুজ্জানান তুহিন, ইবি প্রতিনিধি:   |   বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঈদুল ফিতরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা: ঈদ, সম্প্রীতি ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা
৪৩

শেষের দিকে পবিত্র মাহে রমজান। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সকলেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঈদের আনন্দ কিভাবে সুন্দরভাবে একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা যায়। তেমনি ব্যতিক্রম নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঈদের এই সময়ে যখন সকল মানুষ ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে উৎসবমুখর, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে আসছে রাজনৈতিক সংস্কার এবং সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন। শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন ‘বাংলা দৈনিক’ এর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান তুহিন।

বাঙালির চিরায়ত ঈদ:

ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তায়ালার রহমত হিসেবে সমগ্র ধরাপৃষ্ঠে আসে ঈদুল ফিতর। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের ১ টি ঈদুল ফিতর।
এদিনে প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় বিশ্বের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ঈদের সকালে মায়ের বিভিন্ন নতুন রান্নার পদ তৈরির ব্যস্ততা, বয়োবৃদ্ধ থেকে শিশুদের বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যাওয়া, নামাজ শেষে শখের খেলনা বাটি কিনে ঘরে ফেরা বড়দের থেকে সালামি পাওয়া এগুলোই ঈদের চিরায়ত দৃশ্য! কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে সালামি দেওয়ার মাধ্যমও ঢের বদলেছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে একে অপরকে সালামি প্রদানের মাধ্যমে ঈদের আনন্দে যোগ হয় বাড়তি মুনাফা সমৃদ্ধ হয় ভ্রাতৃত্ববন্ধন। ঈদ হোক সমগ্র মুসলিম জাতি ও মানবসভ্যতার আনন্দের, শান্তির এবং সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

[শাহারিয়া রহমান শিমু, শিক্ষার্থী
আইন বিভাগ]

সম্প্রীতি, ত্যাগ ও শিক্ষার্থীর দায়বদ্ধতা;
ত্যাগের মহিমা আর ভ্রাতৃত্বের অমল এক আবাহন নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে ঈদ। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর চোখে ঈদের এই আনন্দ কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা—অর্থাৎ সাম্য, সহমর্মিতা এবং আত্মত্যাগ—যদি আমরা আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রতিফলিত করতে না পারি, তবে উৎসবের এই আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণতা পায় না। ঈদের আনন্দ সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে একটি সুখী-শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বিশেষ করে আমরা যারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি, আমাদের দায়িত্ব হলো বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা।

[সাহরিয়ার রশীদ নিলয়,শিক্ষার্থী
লোকপ্রশাসন বিভাগ]

এক টুকরো চাঁদ, এক পৃথিবী আনন্দ;

আকাশে যখন চিকন এক টুকরো চাঁদ দেখা দেয়, তখন যেন পুরো পৃথিবী জুড়ে আনন্দের এক অদৃশ্য ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তখন নতুন এক উচ্ছ্বাসের জন্ম হয়। দীর্ঘ এক মাসের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের সাধনার পর সেই ছোট্ট চাঁদই ঘোষণা দেয় আনন্দের মহোৎসবের—ঈদুল ফিতর। দিনের পর দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে তারা ধৈর্য, সহানুভূতি এবং মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করেন। এই রোজা শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং মানুষের মনকে করে আরও কোমল,মানবিক। যখন ঈদের চাঁদ ওঠে, তখন তা শুধু একটি উৎসবের ঘোষণা নয়—বরং এক মাসের সাধনার সফল সমাপ্তির প্রতীক। ঈদের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়; বরং তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়। অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ঈদের সত্যিকারের আনন্দ।

[কানিজ ফাতিমা অনন্যা, শিক্ষার্থী,
কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম]

একটি চাঁদ, অসংখ্য স্মৃতি;
সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর এক ফালি চাঁদই ঘোষণা দেয় বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব—ঈদুল ফিতর। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ বিশেষ অনুভূতি।দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হওয়াই ঈদকে পূর্ণতা দেয়। ঈদের আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অসহায়,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আসল সার্থকতা। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে আনন্দ পৌঁছাক সবার ঘরে—এক টুকরো চাঁদের খুশি বয়ে আনুক সবার জীবনে প্রশান্তি।

[মো. মাহমুদুল হাসান, শিক্ষার্থী,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ]

ঈদুল ফিতরের শিক্ষায় আগামীর প্রত্যাশা

ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ, আর ফিতর শব্দের অর্থ রোজা ভাঙা বা ইফতার করা। তাই ঈদুল ফিতর মানে হলো রোজা শেষ হওয়ার আনন্দের উৎসব। ঈদুল ফিতর মানুষের মধ্যে আত্মসংযম, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্য এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। দীর্ঘ একমাস রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি করে। ধনীরা তাদের সম্পদের একটা অংশ দরিদ্রদের মাঝে দান করার মাধ্যমে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধির এবং মানবিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে। ঈদুল ফিতর শেখায় সমাজের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে, যাতে সমাজে খুন, রাহাজানি ইত্যাদি হ্রাস পায়। সততা ও নৈতিকতার সাথে জীবন যাপন করার ট্রেইনাপ হচ্ছে রমজান। রমজানের এই শিক্ষাগুলো যখনই আমরা সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারবো তখনই কেবল রমজানের উৎকর্ষ সাধিত হবে।

[আফিয়া তাসনিম ঐশী, শিক্ষার্থী,
ফোকলোর এ্যান্ড সোশাল স্টাডিজ বিভাগ]

দেশ ও জাতির কল্যাণে ঈদুল ফিতরের শিক্ষা;
এক মাসের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার সাধনার পর আনন্দের আলো নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। ঈদের তাৎপর্য শুধু উৎসবের আনন্দে নয়; বরং মূল শিক্ষা হলো মানুষে মানুষে সমতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। রমজান আত্মসংযমের মাধ্যমে মানবতার মূল্য বুঝতে শেখায়। ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করতে শেখায় এবং গরীবের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা পায়। ইসলামে যাকাত ও ফিতরা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কার্যকর ব্যবস্থা। এই চেতনা বাস্তবে প্রয়োগ হলে সমাজে বৈষম্য কমে মানবিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।আমার বিশ্বাস তরুণ সমাজ যদি সততা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সমাজে কাজ করে, তবে ঈদের শিক্ষা কেবল উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা হয়ে উঠবে দেশ গড়ার প্রেরণা। রমজানের মানবিক চেতনাকে সারা বছরে জীবন চর্চায় ধারণ করি—তবেই ঈদের আনন্দ রূপ নেবে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী জাতি গঠনের শক্তিতে।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com