শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

একুশের প্রথম প্রহরে ইবিতে মোনাজাত ঘিরে বিতর্ক, ছাত্রদলের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ

ইবি প্রতিনিধি:   |   শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

একুশের প্রথম প্রহরে ইবিতে মোনাজাত ঘিরে বিতর্ক, ছাত্রদলের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ
৭০

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আনুষ্ঠানিক দোয়া-মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে শাখা ছাত্রদল। এসময় হট্টগোল সৃষ্টি হলে ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা এক মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এসব ঘটনা ঘটে।

এদিন রাত পৌনে বারোটা কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ’র নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের বডি সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের উদ্দেশে শোকযাত্রা করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর রাত বারোটা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান। মোনাজাতে শহিদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করে মোনাজাত শেষ করায় ছাত্রদল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। তোপের মুখে পুনরায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পেশ ঈমাম।

তবে ইচ্ছাকৃত শহিদ জিয়ার নাম নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেন শাখা ছাত্রদল। এসময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ‘মুখে শহীদ জিয়ার নাম নিলেও অন্তরে ধারণ করে না’ এবং তাদের ‘ভণ্ড’; ‘দালাল’; ‘বাটপার’ বলে আখ্যা দেন এবং পুনরায় মোনাজাতের দাবি জানান। তাদের বলতে শোনা যায় ‘আরেকবার মোনাজাত করান নাহলে ঝামেলা হবে কিন্তু’। ‘ভিসি স্যার এটা জবাব দিক, কেন ভুলে গেল? আপনি এখানে প্রেজেন্ট থাকা অবস্থায় এটা হলো কেন? আপনি জবাব দেন। এটা ভুল না স্যার, এটা পরিকল্পিত ভুল। ইচ্ছাকৃত ভুল।’

এসময় খোদ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী। যদিও পরে সাংবাদিক উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক ঘটনা মনে করে অভিযোগ করেননি তিনি। প্রো-ভিসি জানান, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান সহ ৫২, ৭২, ২৪ এর সকর শহিদদের জন্য দোয়ার কথা ইমামকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম। হয় তো উনি ভুলে যেতে পারেন, এটা নিয়ে আর হইচই না করি।’

এসময় বেরিয়ে আসার সময় ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোন ছাত্র আমাকে অবস্ট্রাক্ট (বাধা প্রদান) করেছে, এটি খুবই জঘন্য একটা অপরাধ করেছে এরা। আমি তো এখান থেকে বেরিয়ে আসছি, তাহলে সেখানে আমাকে অবস্ট্রাক্ট করার কী অর্থ? আমি তো এটা বুঝলাম না।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মোনাজাতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা— আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে। কারণ আমাদের এই ইমাম সাহেব তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ, অত্যন্ত ভদ্র, আজ পর্যন্ত উনি কোথাও মিসটেক করেননি। কিন্তু এটি উদযাপন কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বাদ দিয়েছে বলে আমি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নেতৃত্বে যারা উপাচার্য মহোদয়কে জিম্মি করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতেছে। সুতরাং আমরা এই সকল বিষয় নিন্দা জানাচ্ছি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট জানান, ‘ছাত্রদল শুধু ভিসি স্যারকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছিল। তখন আমি বলি যে এখনে প্রো-ভিসি সহ প্রশাসন বডির সকলে উপস্থিত ছিল, তাহলে কেন বার বার শুধু ভিসি স্যারকে উদ্দেশ্য করে জবাব চাওয়া হচ্ছে? অব্যবস্থাপনার জন্য তো সকলে দায়ী।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পেশ ঈমাম আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, প্রথম মোনাজাতে সকল শহিদের জন্য দোয়া করা হলেও ঘটনাক্রমে আমাদের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামটা মোনাজাতে আসেনি বা আমার বলা থেকে ছুটে গিয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। আমরা সাধারণত তারাবি পড়ানোর পর শারীরিক ক্লান্তির মধ্যে থাকি, তাই মানুষ হিসেবে ক্লান্তিবোধ থেকেই এই ভুলটি হয়ে থাকতে পারে। ​পরবর্তীতে উপস্থিত ব্যক্তিরা যখন আমাকে বিষয়টি বললেন যে নাম বাদ পড়েছে; তখন আমি বুঝতে পারলাম যে নামটি সত্যিই বলা হয়নি। এই অপূর্ণতা দূর করতেই দ্বিতীয়বার মোনাজাত করা হয়েছে।’

এবিষয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেন নাই। প্রতিবাদ জানানোর পর ইমাম সাহেব ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ ও লালন করি। আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ভুলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com