শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

একুশে পদকপ্রাপ্ত মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর ৫২তম প্রয়ান দিবস পালন

মো: হুমায়ুন কবির:   |   বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৫৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

একুশে পদকপ্রাপ্ত মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর ৫২তম প্রয়ান দিবস পালন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একুশে পদকপ্রাপ্ত মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর ৫২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব কার্যালয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত  মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর ৫২তম মৃত্যু বার্ষিকীতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে ১মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জালাল উদ্দীন খাঁর স্মরণ সভায় কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আসাদুল করিম মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার।

সাধারণ সম্পাদক মো.লাইমুন হোসেন ভূঞার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. জাকির আলম ভূঞা,কেন্দুয়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান, নাট্যকার, সাংবাদিক, জালাল গবেষক রাখাল বিশ্বাস প্রমূখ।

বক্তব্য দেন, কবি আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া, শিক্ষার্থী আসিফুল হক জয়। এসময় কেন্দুয়া উপজেলার যুগান্তর প্রতিনিধি মামুনুর রশীদ মামুন,ভোরের ডাক প্রতিনিধি আবুল কাশেম আকন্দ, ইত্তেফাক প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জীবন, কালবেলা প্রতিনিধি আশরাফুল হক ভূঞা গোলাপ, সংবাদ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর, জণকন্ঠ প্রতিনিধি কামরুল কবীর ভূঞা পল্টু, গণকন্ঠ প্রতিনিধি সৈয়দ মুখলেস উজ জামান, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি আনোয়ার উদ্দিন হীরন উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণ সভা শেষে বাংলাদেশ বেতার শিল্পী জালালভক্ত প্রদীপ পন্ডিত ও শুসেন সাহা রায় মরমী সাধক প্রয়াত জালাল উদ্দীন খাঁর লেখা গান পরিবেশন করেন পাশাপাশি তারা বলেন, প্রতি বছর যাতে এই সব গুণী মানুষের স্মরণে আমরা কোন এক ফাঁকে বসে শেয়ার করতে পারি, এবং কেন্দুয়া অডিটোরিয়াম নাম পরিবর্তন করে সেটাকে মরহুম জালাল অডিটোরিয়াম করার ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

আজকের প্রধান অতিথি কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মরমী সাধক জালাল খাঁর জীবন কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পাশাপাশি জালালভক্ত দাবিগুলির প্রতি পূর্ণ সমর্থন।

এছাড়াও কেন্দুয়া উপজেলা আশুজিয়া ইউনিয়নে সিংহেরগাঁও গ্রামে রোববার থেকে দু’দিনব্যাপী জালাল মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই গ্রামের আঙ্গিনায় তাকে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য, বিংশ শতাব্দীর বিশ ষাটের দশক পর্যন্ত এই গীতিকবি সাধনায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি অনেক গান রচনা করেন। তার জীবদ্দশায় চার খন্ডের ‘জালাল গীতিকা’ গ্রন্থে ৬৩০ টি গান প্রকাশিত হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিল ‘জালাল গীতিকা’ ৫ম খন্ড। সেই খন্ডে গানের সংখ্যা ৭২ টি। তার মোট ৭০২ টি গান নিয়ে ২০০৫ সালে মার্চে প্রকাশিত হয় জালাল গীতিকা সমগ্র।

‘মানুষ থুইয়া খোদা ভজ’,এই মন্ত্রণা কে দিয়েছে ? মানুষ ভজ কোরান খোঁজ, পাতায় পাতায় সাক্ষী আছে ।’জালাল উদ্দীন খাঁর বিখ্যাত উক্তি-‘ আমি বিনে কে বা তুমি দয়াল সাঁই, আমি যদি নাহি থাকি,তোমার জায়গায় ভবে নাই, যা করেছ আমায় নিয়ে সৃষ্টিকে সৌন্দর্য গিয়ে মহা প্রাণে করেছ ঠাঁই। ’

জালাল তার গানগুলোকে বিভিন্ন ‘তত্ত্ব’ এবিন্যস্ত করে প্রকাশ করেন।সেগুলি আত্মতত্ত্ব,পরমতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব,লোকতত্ত্ব,দেশতত্ত্ব, ও বিরহতত্ত্ব নামে পরিচিত। বিশ্ব রহস্য নামে একটি প্রবন্ধ গ্রন্থও রয়েছে তাঁর।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com