শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

কাজের সন্ধানে শ্রমিকদের ছুটে চলা : এ যেন জীবন বাঁচার অস্তিত্বের লড়াই

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কাজের সন্ধানে শ্রমিকদের ছুটে চলা : এ যেন জীবন বাঁচার অস্তিত্বের লড়াই
২৪

জীবন ও কাল বহমান। মহাকালের যাত্রী হওয়ার আগে জীবনপথের নাতিদীর্ঘ রাস্তা বহুকিছুর সাক্ষী বানায়। কত শত চড়াই-উতরাই, আনন্দ-বেদনা সঙ্গী করে ছুটে চলা এ যেন বেঁচে থাকার আকুল প্রচেষ্টা! জীবনের চারপাশ ঘিরে থাকে অজস্র পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির এই জটিল অঙ্ক মেলাতে চেষ্টা করা—বৈচিত্র্যময় মানবজীবনের এ যেন সহজাত প্রবৃত্তি! যাপিত জীবনের খেরোখাতার কঠিন হিসাব মিলুক-না মিলুক,

অক্লান্ত পরিশ্রমের পর কিছু পারিশ্রমিক এনে দেয় সংসারের এক চিলতে প্রশান্তি। তাই জীবনতরির যাত্রী হয়ে জীবনের প্রয়োজনেই তাদের নিত্য ছুটে চলা। কখনো নিজ জেলা, কখনো বা অন্য জেলা—এই তো জীবন! বলছিলাম, গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিনমজুর শ্রেণির শ্রমিকদের কথা।

উত্তরের পিছিয়ে পড়া জেলা গাইবান্ধা। এখানে নেই তেমন কোনো কলকারখানা। কৃষিনির্ভর এই জেলায় ধান রোপণের পর কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদেই কাজের সন্ধানে ছুটে চলেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

চলছে ইরিবোরো মৌসুম। ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। এখন হাতে কাজ নেই। তাই শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে জড়িয়ে পড়ছেন ঋণের চাপে। এরমধ্যে আসন্ন ঈদে পরিবারের জন্য জামা-কাপড়, একটু ভালো খাবারের যোগান, সর্বোপরি জীবন বাঁচানোর তাগিদে দিশাহারা নিম্ন আয়ের এসব মানুষ। তাই কাজের সন্ধানে দল বেঁধে ছুটছেন নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায়। প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে রেলস্টেশনসহ বাস টার্মিনালে।

জাহিদুল ইসলামের পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। দরিদ্র পরিবারে থেকে আর এগোতে পারেননি। আয়ের জন্য কৈশোরেই নেমে পড়তে হয় নানা কাজে। বৃহস্পতিবার তাঁকে পাওয়া যায় গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। ঢাকাগামী বাসের অপেক্ষায় ছিলেন এ তরুণ। সেখানে শতাধিক মানুষ, যারা পেশায় দিনমজুর। প্রতিদিন তাদের মতো চার-পাঁচ হাজার মানুষ ঢাকাসহ নানা জেলার উদ্দেশ্যে গাইবান্ধা ছাড়ছেন। এলাকায় কাজ না থাকায় সংসারের জন্যই তাদের এই যাত্রা।

তাদের ভাষ্য, বোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণ শেষ। এ কারণে হাতে কাজ নেই। এক দিকে, ঋণের কিস্তি অপর দিকে, আসন্ন ঈদে পরিবারের জন্য জামা কাপড় একটু ভালো খাবার এ বাড়তি চাপ সামলাতে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে।

জাহিদুলের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের মালিবাড়ি ইউনিয়নের কচুয়ার খামার গ্রামে। তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। একটি বিল্ডিংয়ের কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন। জাহিদুল বলেন, নির্মাণাধীন যে বাড়ির কাজ করেন, সেখানেই রাতে থাকেন। নিজেরাই রান্না করে খান। দিনে মজুরি মেলে ৬০০ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা শেষ হয়ে যায় হাতখরচ আর খাবারে। বাকি টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পুরো রমজানে কাজ করে ঈদের আগের দিন বাড়ি ফেরার আশা করছেন।

গন্তব্য ভিন্ন হলেও পাশেই বাসের অপেক্ষায় ছিলেন জিয়ারু, মোনারুল মিয়া, নালো মিয়া, মাসুদ মিয়াসহ শতাধিক শ্রমিক। সবার বাড়ি গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে।

সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুরের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, তিনি পেশায় একজন রডমিস্ত্রি। কাজ করেন ময়মনসিংহের ভালুকায়। তিনিশ বলেন, ‘দুই-তিন মাস পরপর বাড়ি আসি। ভালুকায় ঠিকাদারের সঙ্গে কাজ করি। এলাকায় কাজ থাকলে তো হামাক ঘর-বাড়ি ছাড়ি বিদ্যাশ খাটা লাগতো না।’

গাইবান্ধা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাদশা মিয়ার দেওয়া তথ্যমতে, বগুড়া, ঢাকার সায়দাবাদ ও চট্টগ্রামের বাসে দিনে অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন। তারা কেউ দিনমজুরি করেন, কেউ রিকশা চালান। কেউ রাজমিস্ত্রি বা কেউ গার্মেন্টসের কাজে যান। নিজ জেলায় কর্মসংস্থান থাকলে তারা হয়তো এলাকাতেই কাজের সুযোগ পেতেন।

কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে অন্য কোথাও যেতে হতো না। এমনই মনে করেন গাইবান্ধা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু। তাঁর ভাষ্য, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ ৫৪ বছরেও গাইবান্ধায় একটা শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই এখানে কর্মসংস্থানের অভাব।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল করিম জানান, গাইবান্ধাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলে শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মহীন মানুষের কাজের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে। তবে গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। যথাসাধ্য সে চেষ্টাই চালানো হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com