আনোয়ার হোসেন | বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩৯৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কি ছিল আমাদের বৃদ্ধা মায়ের অপরাধ? তোমরা কেনো তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে। তোমরা এতই নিষ্ঠুর, এতই পাষাণ, তোমাদের হৃদয়ে কি মায়ামমতা নেই। মায়ের রক্তাক্ত নিথর দেহের কথা মনে করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন তিন পুত্র নুর আলম মণ্ডল, মোছাদ্দেক মণ্ডল ও আশাদুল মণ্ডল। আহাজারি করছেন, কেউ কি শুনবে না আমাদের কান্না? আমরা পাবো কি এর ন্যায় বিচার? তিন পুত্রের এই আর্তনাদে আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কৃষ্ণপুর (রওশনবাগ) গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই অসহায় পরিবারটির এমন আহাজারি। নুর আলম মণ্ডল, মোছাদ্দেক মণ্ডল ও আশাদুল মণ্ডল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর (রওশনবাগ) গ্রামের মৃত আবুল কালাম মণ্ডলের পুত্র।
ঘটনার আদ্যোপান্ত ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের নুর আলম মণ্ডল, মোছাদ্দেক মণ্ডল ও আশাদুল মণ্ডল লেখা পড়া শিখে চাকুরীর পিছনে না ঘুরে বাপ দাদার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে সুখেই দিন কাটছিলেন। এতে বাধা হয়ে দাড়ায় একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ির ভাগি-শরীক প্রতিপক্ষ মৃত মজিদুল হক মণ্ডলের পুত্র হালিম মণ্ডলগং। হালিম মণ্ডল এর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু প্রতিবেশীরা অসহায় নুর আলম মণ্ডল, মোছাদ্দেক মণ্ডল ও আশাদুল মণ্ডল এর পৈত্রিক সম্পত্তি বা জমিতে তাদের অংশ ও অধিকার আছে মর্মে বিরোধ সৃষ্ট করে আসেন।এক পর্যায়ে গত ১০-০২-২০২৫ ইং তারিখ সকাল ৮ টায় প্রতিপক্ষগণ সংঘবদ্ধ হয়ে ভোগ দখলীয় জমির গাছ পালা কর্তন বাড়িঘর ভাঙ্চুরসহ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
এ ঘটনায় মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে প্রতিপক্ষগণ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এই মামলা আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় সংঘবদ্ধ প্রতিপক্ষগণ প্রতিশোধের বদলা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী নুর আলম মণ্ডল, মোছাদ্দেক মণ্ডল ও আশাদুল মণ্ডল বাড়িতে না থাকার সুবাদে সংঘবদ্ধ ওই প্রতিপক্ষগণ গত ০৯-০৫-২০২৫ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টায় বসত বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে আবারও বাড়িঘরে ভাঙ্চুর তাণ্ডব চালায়। এতে বৃদ্ধা মা কোহিনুর বেগম বাধা দিতে গেলে তার উপর অতর্কিত হামলা করে হত্যার চেষ্টায় বেধরক মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করান। এখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুর আলম মণ্ডল নিজে বাদী হয়ে এদিন পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা (নং ০৪/২৫) দায়ের করেন। প্রতিপক্ষ হালিম মণ্ডল জানান, তাদের কোন জমি নেই।বরংছ তারা পরিকল্পিত বিরোধ সৃষ্টি করে মামলা মোকদ্দমায় হয়রানি করে আসছে। ভুক্তভোগী নুর আলম মণ্ডল দাবি করেন, হালিম মণ্ডলের অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেও থামছে না প্রতিপক্ষগণের তণ্ডব লিলা। তাদের অত্যাচার, নির্যাতনে ভিটেমাটি ছেড়ে মান-সম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে কাটতে হচ্ছে নির্বাসিত জীবন।
অবশেষে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেলো না ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কোহিনুর বেগম। জবর দখলে বাঁধা দেয়ায় তাকেও বেধরক মারপিটে রক্তাক্ত জখম করেছে। এই বৃদ্ধা মা এখন রক্তমাখা দেহ নিয়ে হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রণায় ছটপট করছে। প্রভাবশালী প্রতিপক্ষগণের এমন তাণ্ডবে নির্বাক হয়ে পড়েছে এলাকার গণ্যমান্য সমাজ সচেতন ব্যক্তিরাও। সচেন মহলের ধারণা, পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সঠিক তদন্তে উন্মোচন হবে ঘটনার আসল মুখোশ। নিরসন হবে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com