শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

কুলিয়ারচরে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ : নিরাপত্তাহীনতায় বাদীর পরিবার

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)   |   শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুলিয়ারচরে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ : নিরাপত্তাহীনতায় বাদীর পরিবার
১০

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মামলা তুলে আনার জন্য মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হুমকি ধামকির ভয়ে মামলার বাদী ও বাদীর পরিবারসহ স্বাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এমন দাবী করছেন মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা। মামলার বাদী উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের দশকাহুনি গ্রামের মৃত সুলতান উদ্দিনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (৪৮) অভিযোগ করে বলেন, তাদের পার্শ্ববর্তী বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে দীন ইসলাম (২৮) মাদক নিয়ে তাদের বাড়ির উপর দিয়ে আসা যাওয়া করিলে তাকে মাদক নিয়ে বাড়ির উপর দিয়ে আসা যাওয়া করতে বাধা নিষেধ দেয় মো. ইবাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৯ আগষ্ট বাত আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় দীন ইসলাম (২৮) সহ তার পিতা তাজুল ইসলাম (৫৫), ভাই মো. বিবান মিয়া (১৮), মো. ইমরান মিয়া (২০) ও তাদের আত্মীয় পার্শ্ববর্তী রামদী ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের হারিছ মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন মিলে দা, রড ও লাঠি ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রাদি নিয়ে বাদীর বাড়ীতে অনধীকার ভাবে প্রবেশ করিয়া বাদীর স্ত্রী মোছা. নিলুফা আক্তার (৪০) কে ঘরে একা পেয়ে তাকে কুপিয়ে ও এলোপাতাড়ি ভাবে বাইড়াইয়া খুন করার চেষ্টা করে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তার পড়নের কাপড় ধরিয়া টানা হেছড়া করিয়া বিবস্ত্র করিয়া শ্লীলতাহানি ঘটায়।

বিবাদীদের হামলায় মোছা. নিলুফা আক্তারের ডান চুক্ষু নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন যায়গায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম হয়। এতেও তারা খ্যান্ত হয়নি। কয়েকজন মিলে মো. ইকবাল হোসেনের ঘরের সুকেস ভাংগিয়া সুকেসে রক্ষিত নগদ টাকা ও স্বর্নলংকার লুট করে নিয়ে যায়। এসময় আহত নিলুফা আক্তারের ডাক চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার স্বামী মো. ইকবাল হোসেন গুরুতর আহত মোছা. নিলুফা আক্তারকে উদ্ধার করে বাজিতপুর ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমীর অবস্থা গুরুত্বর দেখিয়া তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে তার ডান চুক্ষু নষ্ট হয়ে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এঘটনায় মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে গত ১৭ আগষ্ট মো. বিবান মিয়া (১৮) কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২/৩ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে “বেআইনি জনতা বদ্ধে বাড়ী ঘরে অনধিকার প্রবেশ করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে সাধারন ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করতঃ শ্লীনতাহানী, চুরি ও ভয়ভীতিসহ হুকুম দানের অপরাধে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং- ০৭। মামলা দায়েরের পর মামলার ৩নং আসামি দীন ইসলাম (২৮)কে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। এব্যাপারে মামলার প্রধান স্বাক্ষী বাদীর স্ত্রী জখমী মোছা. নিলুফা আক্তার বলেন, মামলা করার পর থেকে আসামীরা প্রকাশ্যে বাড়িতে আসিয়া আমাদের গালিগালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং বলছে মামলা তুলে আনার জন্য। মামলা তুলে না আনলে তারা আমাদের নাকি মেরে ফেলবে। আমরা আসামিদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়া মামলার স্বাক্ষী মো. মধু মিয়া (৩৫) ও আবু সায়িদ (৩২) বলেন, আমাদেরকেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। এব্যাপারে মামলার ৫নং আসামী শাহজাহান মিয়া (৪০)এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বাদীর বাড়িতে গিয়েছিলেন স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কোন প্রকার হুমকি ধামকি দেইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার ছোট সালা (মো. বিবান মিয়া) নিলুফা আক্তারকে বাইরাইয়া আহত করেছে এবং তার একটি চোঁখ কানা করে দিয়েছে।

আমি নিলুফা আক্তারকে নিজে আমার মাইক্রোবাস দিয়ে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য নিয়ে যাই। এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোহাব্বাত জান সরদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার এজাহার ভূক্ত ৩নং আসামীকে মাদকসহ গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা করে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাকে মো. ইকবাল হোসেনের দায়ের করা মামলা নং- ০৭(০৮)২৫- তে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, গত ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরকারি আদেশে তিনি বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মামলাটি ওসি সাহেবের নিকট হস্তান্তর কারা হয়েছে। এব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হুমকি ধামকির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com