শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

কুড়িগ্রাম-১ আসন অভ‍্যন্তরীন কোন্দলে বিএনপির হার

ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধিঃ   |   শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুড়িগ্রাম-১ আসন অভ‍্যন্তরীন কোন্দলে বিএনপির হার
২০৭

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাইফুর রহমান রানাকে হারিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ দখলে নেন জামায়াত মনোনীত মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিজয়ের হাসি হাসেন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী পান ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। এদিকে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ৪ বারের এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবার লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৭ ভোট।

অপরদিকে সাংগঠনিক দূর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান তবে তিনি জামানত হারাবেন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারি রনি, জাকের পার্টির আব্দুল হাই ও গণঅধিকার পরিষদের বিন ইয়ামীন মোল্লা।

প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট বৈধ ভোট গণনা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৭টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট পেয়েছেন। জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ৯০৭ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে ২৩১ ভোট পেয়েছেন। যদিও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নির্বাচনের দুই দিন আগে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী – নাগেশ্বরী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে এবার বিএনপির প্রত্যাশা ছিল অনেক বড়। প্রচারণায় সরব উপস্থিতি, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব মিলিয়ে দলীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়ভাবে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের দুর্গ এবার বিএনপির দখলে যাচ্ছে। কিন্তু ফল ঘোষণার পর পাল্টে যায় হিসাব-নিকাশ। জয় পায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদক্ষতা, গ্রুপিং, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি, ভোট সমীকরণের জটিল হিসাব ও স্থানীয় সমন্বয়হীনতার কারণেই নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে।

বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার একাংশ নেতা সক্রিয় থাকলেও অন্য অংশ নীরব ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি থাকলেও কার্যকর মাঠ-সমন্বয় দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির একাধিক যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ‘প্রচারণা ছিল, কিন্তু ঐক্য ছিল না। ভেতরের দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে।’

কুড়িগ্রাম-১ আসন বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পরাজয়ের জন্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার হারার পেছনে জেলা আহ্বায়কের সরাসরি ভূমিকা আছে। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটিকে আমাকে হারাতে ইন্ধন দেওয়া হয়েছে। শুধু আমার আসন নয়, কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে ভরাডুবি হয়েছে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com