এস এম নওশের | সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কোলকাতা শহর টা কে কেন জানি না আমার ভীষন ভাল লাগে।এর কারন খুজে পাইনা যদিও।২০১১ সালে প্রথম যখন এসেছিলাম সেই তখনেই মনে হয়েছিল এই শহর যেন আমার বড্ড আপন।আমি যেন এর আগেও এসেছি।সাইকোলজি তে একে কি যেন একটা টার্ম বলে মনে নেই এবার আমার ৫ম বারের মত আসা।গন্তব্য ছিল কাস্মির।হাতে ১ দিন সময় রেখে এসেছিলাম। সকালে বেরুলাম আমার মীর্জা গালিব স্ট্রিট থেকে লক্ষ্যহীন ভাবে ।সেখানেই ছিল আমার হোটেল।হাটতে হাটতে চলে এলাম নিউ মার্কেট এস্পল্যানেড মেট্র।চড়ে বসলাম থুড়ি দাড়ালাম দমদম গামি মেট্র স্টেশনে।এই ভীড়ের মধ্যে মেট্র তে সীট পাওয়া আর খড়ের ভেতর সুই পাওয়া একই।তারপরে আবার সীটের উপরে লেখা আছে মহিলা ও বৃদ্ধ দের জন্যে সংরক্ষিত।আমার মেট্র জার্নি ভীষন ভালো লাগে।খরচ ও অনেক কম।

মাত্র দশ টাকা খর্চা করে দম দম স্টেশন চলে এলাম। চলে ত এলাম কিন্তু যাব কই? ঠিক করলাম এখন তো চক্র রেল চালু।এক কাজ করি এখান থেকে মাঝের হাট চলে যাই কোলকাতা স্টেশন শ্যাম বাজার ক্যালকাটা পোর্ট এর দৃশ্য দেখ্তে দেখতে। মাঝের হাট থেকে শিয়ালদা ফিরব বালিগঞ্জ টালিগঞ্জ পার্ক সার্কাস দেখতে দেখতে। কাউন্টার থেকে টিকিট নিলাম।দম দম থেকে মাঝের হাট ভাড়া নিল পাচ টাকা। ১২.২০ এর ট্রেন।বজবজ লোকাল।৪ নম্বর প্ল্যাট ফর্মে অপেক্ষা করতে করতে দেখলাম অনেক ট্রেনের যাওয়া আসা।দমদম অত্যন্ত ব্যস্ত তম একটা স্টেশন।প্রায় দু মিনিট পর পরেই আপ এনড ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন আসছে বা যাচ্ছে।কোন টা দাড়াচ্ছে কোন টা সিগ্ন্যাল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ঝিক ঝিক করে চলে যাচ্ছে।আমার বজবজ লোকাল ও এল।আমি উঠে পড়লাম।ট্রেন ছেড়ে দিল।

অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম আমি ছাড়া এই কামরায় কোন পুরুষ নেই।চোখে পড়ল লেখা ” Ladies only”” হায় হায় কি করলাম এটা।জেনানা কামরায় উঠে গেলাম।পরে এক ভারতিয় বন্ধুর কাছে জেনে ছিলাম লোকাল ট্রেন গুলাতে মহিলাদের জন্যে একটা বা দুটো কামরা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।ভাল লাগল ভারতীয় রেলের এই উদ্যোগ কে।এতে বহু কর্মজীবী মহিলারা যাদের প্রতিদিন বেরুতে হয় তারা বেচে গেছেন অনেক উটকো বিড়ম্বনা থেকে। ভাগ্যিস মহিলারা খেপচুরিয়াস হয়ে আমায় কিছু বলেন নি।এনাদের জিভের যা ধার।একেবারে কেলেংকারিয়াস ব্যাপার হয়ে যেত। আমার চেহারা দেখে হয়ত উনারা ক্যাবলা ভ্যবলা ভেবেছিলেন।চুপচাপ দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।বিধান নগর স্টেশনে আসতেই সবার আগে নেমে গেলাম।অন্য কামরায় ঠেলে ঠুলে উঠলাম।বজ বজ লোকাল এই ট্রেন টা আসলে চক্র রেল ছিল না এটা শিয়ালদা স্টেশন বাইপাস করে পার্ক সার্কাস বালিগঞ্জ টালিগঞ্জ ইত্যাদি হয়ে মাঝের হাট এলো।
এখানে অদ্ভুত একটা ব্যাপার দেখলাম।টালিগঞ্জ সেটেশন পেরুতেই চলে এল আরেকটা স্টেশন লেক গার্ডেন্স।এত অল্প দুরত্বে দুটা স্টেশন!!!! মানে এক স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শেষ তো অন্যটির শুরু। পউছে গেলাম মাঝের হাট।ফিরতি টিকিট করে নিলাম। স্টেশন টা শহরতলির স্টেশন।ভিড় ভাড় নেই।পরের ট্রেনে চড়ে বসলাম।কিন্তু আমি ভুল ট্রেনে চড়েছি।এটা ছিল বজবজের ট্রেন।যাক গে বজ বজ ও নাহয় দেখে গেলাম।টিটি ধরলে টিকিট দেখিয়ে বলব ভুল করে উঠে গেছি।কিন্তু কেউ চেক করতে এল না ঘন্টা খানেক জার্নি করে চলে এলাম বজবজ।এটা একেবারেই প্রান্তিক স্টেশন।হুগ্লি নদির ধারে। এখানে থেকেই নাকি স্বামি বিবেকানন্দ জাহাজ থেকে নেমে শিয়ালদার ট্রেন ধরে ছিলেন।এই স্টেশনে জীবনে প্রথম লেবু আর ছাতুর সরবত খেলাম।সরবতে এরা চিনি না দিয়ে লবন দিয়েছিল।একই ট্রেনে ফিরলাম শিয়ালদা।পরদিন আমার দিল্লি যাবার দুরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেন টা কোন প্ল্যাট ফর্ম থেকে ছাড়বে দেখে নিলাম।শিয়ালদা থেকে বেরিয়ে বাসে চড়লাম।
.গন্তব্য হাওড়া স্টেশন।সেখানে একটা রেল মিউজিয়াম হয়েছে শুনেছিলাম।সেটা দেখার জন্যেই হাওড়া যাওয়া।হাওড়া নেমে একে অকে জিজ্ঞেস করে চলে এলাম রেল।মিউজিয়াম।তখন শেষ বিকেলের পড়ন্ত বেলা। ত্রিশ টাকা টিকিট করে ঢুকলাম।দিল্লির রেল মিউজিয়ামের মত অত বড় না হলেও বেশ ভালই।একটা সার্কুলার টয় ট্রেন আছে।এর টিকিট ও ত্রিশ টাকা।এখানে হাওড়া রেল স্টেশনের একটা রেপ্লিকা বিল্ডিং আছে।এখান থেকেই টয় ট্রেনের যাত্রা শুরু আর শেষ।যিনি টিকিট দেন তিনি ই আবার এই ট্রেন টা চালান।চড়লাম এটায়।এরপর এর চালক আমিন উদ্দিনের সাথে পরিচিত হলাম।সেল্ফি নিলাম পুরো এরিয়াটা খুব বেশি বড় নয়। এক ঘোরাতেই দেখা শেষ।
এখানে একটা ট্রেনের ইঞ্জিন আছে যেটা ছিল ততকালিন পুর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের ইঞ্জিন।এটা কিভাবে এখানে এলো এর বিশদ কোন বর্ননা পাইনি।আছে বিভিন্ন মডেলের স্টিম ইঞ্জিন ডিজেল আর ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিন।পুরোনো দিনের রেল কামরা। রেলের বিভিন্ন সরঞ্জাম এটা দেখা শেষ করে চলে এলাম নদীর ধারে।তখন বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা।জ্বলে উঠেছে হাওড়া ব্রিজের লাল নিল হরেক রঙ এর আলো।সে সাথে হাওড়া রেল স্টেশনের ফ্লুরোসেন্ট লাইট গুলো।আকাশে দেখি কালো মেঘ। বিদ্যুত চমকাচ্ছে।নদি থেকে বেশ হাওয়াও আসছে।চলে এলাম ফেরি ঘাটে।মাত্র ছয় টাকা দিয়ে অপারের ফেয়ারলি ঘাটের টিকিট নিলাম।
যাত্রী বেশি ছিল না।উঠার অল্প কিছু ক্ষন পরেই ছেড়ে দিল।নদীতে বেশ ঢেউ ছিল।দুলছিল ফেরি টা বেশ।কাল বৈশাখি ঝড়ের পুর্ব লক্ষন। এই ফেরি থেকেই লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন বিখ্যাত গীতিকার কবি পুলক বন্দোপাধ্যায়। দেখতে দেখতে চলে এল ফেয়ারলি।সেখান থেকে বাসে চলে এলাম ধর্ম তলা।তখন ঘড়িতে রাত আট টা।হোটেল ফিরে শেষ হল আমার সেদিনকার উদ্দেশ্যহীন ভাবে কোলকাতা পরিক্রমা
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com