আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৪৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
“মাদককে না বলি, সুন্দর জীবন গড়ি।” মাদকাসক্তি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে, তাই মাদককে রুখে দিতে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচাররোধে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে গাইবান্ধা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচাররোধে সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধায় প্রতিষ্ঠিত হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরটি শুরু থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে
অপারেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে মাদকের অপব্যবহার রোধ, সরবরাহ হ্রাস এবং চোরাচালানে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছে, একই সাথে মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলমান রেখেছে।
গাইবান্ধা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারী হতে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৮ মাসে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক মোট নিয়মিত ২শ’ ৮০টি মামলা ও ১শ’ ৫৮টি মোবাইল কোর্টে ৫শ’ ৪৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়াও মোট ২ কোটি ২০ লক্ষ ২৫ হাজার ২শ’ ১৮ টাকা মুল্যের বিভিন্ন ধরণের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সবের মধ্যে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ কর্তৃক ১শ’ ৮৪টি মামলায় ২শ’ ৬০ জনকে আসামী এবং ৪৪ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪শ’ ১০টাকা মুল্যের বিভিন্ন ধরণের আলামত উদ্ধার করা হয়। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৭৪টি মামলা ও ১শ’ ৫৮টি মোবাইল কোর্টে ২শ’ ৫৩ জনকে আসামী এবং ১ কোটি ১৯ লক্ষ ১৫ হাজার ১শ’ ৮টাকা মুল্যের বিভিন্ন ধরণের আলামত উদ্ধার করে। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ২২টি মামলায় ৩০ জনকে আসামী এবং ৫৬ লক্ষ ২০ হাজার ৭শ’ টাকা মুল্যের বিভিন্ন ধরণের আলামত উদ্ধার করে।
গাইবান্ধা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ্-নেওয়াজ বলেন, মাদকাসক্তি নিরোধে একজন উপ-পরিচালকের ভূমিকা কেবল নীতি বাস্তবায়ন নয়, বরং একটি সমন্বিত এবং বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা, যা প্রতিরোধ, চিকিৎসা, এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার সকল স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
তিনি বলেন, গাইবান্ধা জেলার উপজেলা সমূহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোন শাখা অফিস নেই। জেলা শহর থেকেই সল্প জনবল নিয়ে ৭টি উপজেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই মাদক সমস্যার সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসরকারি সংগঠন, সব ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। তবেই আমরা পেতে পারি একটি সুস্থ জাতি সুস্থ সমাজ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com