শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

গাইবান্ধায় এনথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৮৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাইবান্ধায় এনথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম
২১

এনথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করেছে। জেলায় গবাদিপশুর মধ্যে এনথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় রোগটির বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এ জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এনথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ, যা গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। এ প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও
ভেটেরিনারি হাসপাতাল সমন্বয়ে গবাদিপশুর টিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও গবাদিপশুর তড়কা রোগ প্রতিরোধে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করছে।

অসুস্থ পশু জবাই না করা, মৃত পশুকে খোলা স্থানে বা পানিতে না ফেলে বরং গভীরভাবে মাটিচাপা দেয়া এবং যেকোনো পশুজনিত অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতাল বা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত জানান, এনথ্রাক্স (তড়কা) আদিপশুর একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট লোম খাড়া হয়ে থাকা এবং শরীরের কাঁপুনি দেখা যায়। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে আক্রান্ত পশু ২ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মারা যায়। মৃত পশুর পেট দ্রুত ফেঁপে যায় এবং নাক, মুখ, কান, মলদ্বার ও যোনিপথে দিয়ে আলকাতরার মত রক্ত বের হয়।
এ রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাতে এথে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধে অসুস্থ পশু সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে। কোন ক্রমেই অসুস্থ পশুর মাংস কাটা ছেঁড়া বা খাওযা যাবে না। মৃত পশুর দেহের সব স্বাভাবিক ছিদ্রপথ কাপড় বা তুলা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।
মৃত পশু যেখানে সেখানে না ফেলে বা পানিতে না ভাসিয়ে উঁচু স্থানে কমপক্ষে ৬ হাত গভীর গর্ত করে চুন ছিটিয়ে পুঁতে ফেলতে হবে। অসুস্থ পশুর সকল মলমূত্র, রক্ত ও বিছানাপত্র একই গর্তে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে দিতে হবে। আক্রান্ত স্থান ব্লিচিং পাউডার বা অন্য কোন জীবাণুনাশক ঔষধ দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।

তিনি আরও জানান, এলাকায় সকল সুস্থ গবাদিপশুকে এনথ্রাক্স (তড়কা) রোগের টিকা (রিং ভ্যাকসিনেশন) দিতে হবে। এনথ্রাক্স প্রতিরোধে টিকাদান, গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসুস্থ পশু জবাই না করা, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গবাদি পশু থেকে মানুষের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগটি ছড়ানো রোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর জোর দেয়া হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com