আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নমূলক দৃশ্যমান কাজের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে উপজেলার গ্রামীণ জনপদের চিত্র, যা সহজ করছে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষকদের ফসল বাজারজাতকরণে দিয়েছে সুবিধা। এই কার্যক্রম কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এক সময় এ উপজেলার গ্রামীণ জনপদ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনুন্নত একটি অবহেলিত জনপদ। রাস্তা-ঘাট ছিল কাঁচা খানা-খন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্ট হতো জলাবদ্ধতা। ছিলনা ব্রিজ-কালভার্ট। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হতো সাধারণ পথচারী, স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরীজীবিসহ সাধারণ ব্যবসায়ীদের। তখন গ্রামীণ জনপদের মানুষের যাতায়াতের বাহন ছিল বর্ষাকালে নৌকা আর শুকনাকালে গরু ও ঘোড়ার গাড়ি। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পেরে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতো। দিন বদলের পালায় অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তা পাকা হওয়ায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী উন্নয়নের ছোঁয়ায় শহরের মতোই সুফল পেতে শুরু করেছে।

ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলজিইডি গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করার মাধ্যমে গ্রামের মানুষের সহজ ও স্বল্প খরচে যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে মাঠের রাস্তাগুলো কাঁদামুক্ত ও উন্নত করার ফলে কৃষকদের ফসল সহজে বহন ও বাজারজাত করণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন সড়ক যোগাযোগ, হাট-বাজার, এবং গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ফলে গ্রামীণ কৃষি ও অকৃষি পণ্যের বিপণন সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে এতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে উন্নয়নের আলোর মুখ দেখছেন সাধারণ জনগণ।
স্থানীয়রা জানান, দেশের জাতীয় অর্থনীতির মূল উৎস গ্রাম। গ্রাম উন্নয়ন ব্যতিত দেশের সর্বমূখী বা সর্বজনীন কল্যাণ সম্ভব নয়। গ্রামের অবস্থান ও উন্নয়নের ওপর দেশের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। তাই উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী এক সময়ে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ অব্যাহত থাকায় স্মরণাতীত কালের সুফল পাচ্ছেন উপজেলাবাসী। শুধু তাই নয়, গ্রামে বসবাস করেও মানুষ এখন শহরের সুবিধা ভোগ করছেন। উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া জানান, এলজিইডি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। এ উন্নয়ন সাফল্য অর্জনে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়কপথ নির্মাণকাজে এলজিইডি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। চলমান ও প্রক্রিয়াধীন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আরও পাল্টে যাবে এ উপজেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা। এ জন্য প্রয়োজন সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com