শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

গাইবান্ধায় খনিজ সম্পদের সন্ধান : পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সাফল্য

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাইবান্ধায় খনিজ সম্পদের সন্ধান : পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সাফল্য
৪৭

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদের সন্ধান মেলার পর এবার পরীক্ষামূলক উৎপাদনে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি এভারলাস্ট মিনারেলস কোম্পানি লিমিটেড।

শুরুতে ১ শতাংশ ভারী খনিজ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৩.৫ শতাংশে। কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ ভারী খনিজ আহরণ করা, যা অর্জিত হলে পূর্ণোদ্যমে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে কোম্পানিটি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গাইবান্ধা সদরের খারজানি চর ও ফুলছড়ি উপজেলার বালাসিঘাট (ভাসারপাড়া) ঘুরে দেখা যায়, নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বালু থেকে খনিজ আলাদা করার কাজ করছেন তারা।

ব্রহ্মপুত্রের এ বালু থেকে মূলত পাঁচটি প্রধান খনিজ পাওয়া যাচ্ছে, জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গার্নেট।

এর মধ্যে জিরকন: সিরামিক টাইলস ও রিফ্যাক্টরিজ নির্মাণে, রুটাইল: রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস ও ওষুধ উৎপাদনে, ইলমেনাইট: ওয়েল্ডিং রড ও টাইটানিয়াম মেটাল তৈরিতে, ম্যাগনেটাইট: চুম্বক ও ইস্পাত উৎপাদনে এবং গার্নেট: সিরিঞ্জ ও কাগজ শিল্পে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ এ খনিজগুলো বিদেশ থেকে চড়া দামে আমদানি করে। নিজস্ব উৎস থেকে এগুলো আহরণ করা গেলে সিরামিকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে খরচ ব্যাপক হারে কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১০ মিটার গভীরতায় প্রতি বর্গকিলোমিটার বালুচর থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ভারী খনিজ পাওয়া সম্ভব। যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৪ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালে সরকার ২৮টি শর্তে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, আহরিত খনিজের ৪৩ শতাংশ পাবে সরকার এবং ৫৭ শতাংশ পাবে কোম্পানিটি।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের বিভাগীয় প্রধান (রসায়ন) মমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গার্নেট, জিরকন, রুটাইল এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ। যা আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে এসব খনিজ আহরণ শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাাফিজার রহমান জানান, দেশের উন্নয়ন- অগ্রগতিতে খনিজ সম্পদ বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ব্রহ্মপুত্রের চরে লুকিয়ে থাকা এ সম্পদ যথাযথভাবে আহরণ করা গেলে তা বাংলাদেশের শিল্পায়নে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com