শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

গাইবান্ধায় জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাইবান্ধায় জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা
১০৮

ঘনিয়ে আসছে ঈদ। গাইবান্ধা জেলা শহরের অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বিশেষত দুপুরে ও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন দোকানিরা।

কয়েকজন দোকানি বলেছেন, গত বছরের এ সময়ে শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতানে বেশির ভাগ সময় বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ভিড় থাকছে। দিনে গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা এবং সন্ধ্যার পর শহরের ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা তত জমে উঠছে।

ঈদ সামনে রেখে গাইবান্ধা শহরের অভিজাত বিপণিবিতানগুলো নানাভাবে সাজানো হয়েছে। রাতে শহরের অভিজাত বিতান সালিমার সুপারমার্কেট, তরফদার ম্যানশন, ইসলাম প্লাজা, পৌর মার্কেট, শাপলা মার্কেট, গোবিন্দ প্লাজায় রঙিন বাতি জ্বলছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এ বছর এসব বিপণিবিতানে মেয়েদের পদ্মাবতী নামের থ্রি-পিস প্রতিটি তিন হাজার থেকে ছয় হাজার, ফ্লোর টাচ আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, লং ফ্রগ দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, সাধারণ ফ্রক ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ঝিলিক ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার, অরবিন্দ ১ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা, জর্জেট ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোনো বিতানে দোকানিরা বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, কোনো বিতানে দোকানিরা বসে আছেন, কোনোটিতে দু-তিনজন করে ক্রেতা কাপড় দেখছেন। তবে কম দামে কাপড় কিনতে পাওয়া যায় বলে পৌর মার্কেটে ভিড় একটু বেশি।

বিক্রেতা বলছেন, ক’দিন পরই ঈদ। কিন্তু ক্রেতারা কাপড় পছন্দ করতে যেভাবে যাচাই-বাছাই করছেন, সেভাবে কিনছেন না। ভিড়ের তুলনায় বিক্রির গতি কম। ঘুরেফিরে দেখছেন, দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। এর মধ্যে নারী ক্রেতাই বেশি।

গাইবান্ধা শহরের বিপণিবিতানগুলোতে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে কারচুপি ও সিকুয়েনস নামের থ্রি-পিস। প্রতি পিস কারচুপি ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং সিকুয়েনস দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে অরবিন্দু নামের পাঞ্জাবি ও প্রিন্টের পাঞ্জাবি। প্রতি পিস অরবিন্দু পাঞ্জাবি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং প্রতি পিস প্রিন্টের পাঞ্জাবি এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

শহরের সালিমার সুপারমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সন্ধ্যা ওড়না ঘরের ব্যবস্থাপক কাজল পাল বলেন, এবারের ঈদে বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা কারচুপি ও সিকুয়েনস বেশি কিনছেন। পাশাপাশি ছেলেরা বেশি কিনছেন অরবিন্দু ও প্রিন্টের পাঞ্জাবি।

সাদুল্লাপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের কলেজছাত্রী খন্দকার রিমি বলেন, এবারের ঈদে কারচুপি ও সিকুয়েনস থ্রি-পিস বেশি চলছে। আমার বান্ধবীরা সবাই এ দুটো থ্রি-পিসই কিনেছে। আমার এক বান্ধবী সিকুয়েনস কিনেছে।’

গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট গ্রামের কলেজছাত্র মিল্লাত হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন ঈদে বিভিন্ন নামে পাঞ্জাবি মার্কেটে আসে। এবার অরবিন্দু ও প্রিন্টের পাঞ্জাবি বেশি চলছে। তরুণ কিশোর-যুবকেরা এই পাঞ্জাবি বেশি কিনছেন। আমি অরবিন্দু পাঞ্জাবি কিনলাম।’

একই এলাকার সংস্কৃতিকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ঈদে সাদা রঙের পাঞ্জাবি কিনেছি। এবার প্রিন্টের পাঞ্জাবি কিনলাম।’

শহরের অন্যতম সালিমার সুপারমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা রংবেরঙের স্বত্বাধিকারী ও সালিমার সুপারমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা সাহা বলেন, গত বছর রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেচাকেনা জমে ওঠে। এ বছর কয়েক দিন আগে বেচাকেনা জমে উঠেছে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের বেচাকেনা জমে ওঠা সাধারণত গ্রামাঞ্চলের মানুষের ওপর নির্ভর করে। কারণ, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি। যার প্রভাব ঈদ মার্কেটে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন ক্রেতাদের যে ভিড় দেখছেন, তাঁদের মধ্যে চাকরিজীবী বেশি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামের কৃষক ফিরোজ কবির (৪০) বলেন, ‘দুই মণ ধান বেচি মারকেটোত আচ্চি কাপড়া কিনব্যার। এই মারকেটোত নাকি কম দামের কাপড়া পাওয়া যায়।’

পৌর মার্কেটের মিলন গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী সামসুজোহা প্রামাণিক বলেন, বর্তমানে বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেশি। এসব কারণে বেচাকেনা ধীরে ধীরে জমে উঠছে।

শহরের পিকে বিশ্বাস রোডের গাউনপট্টি মার্কেটে কম দামে কাপড় পাওয়া যায়। এ জন্য স্থানীয়ভাবে এটি ‘গরিবের মার্কেট’ বলেও পরিচিত। এই মার্কেটে আসা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের জহুরা বেগম বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। কদিন থাকি ছোলটে একনা জামার জন্নে বায়না ধরচে। বাদ্য হয়া মারকেটোত আচ্চি। কমদামের এ্যাকনা জামা কিনি দেমো।’

একই মার্কেটে আসা একই উপজেলার মালিবাড়ি গ্রামের রিকশাচালক জসিম উদ্দিন (৪৫) নিজের ভাষায় বললেন, ‘আচকে মানসের কাচে ৭০০ ট্যাকা দ্যানা করি গাউনপট্টি মারকেটোত আচ্চি। ছোট ব্যাটার একনা শার্ট কিনমো।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com