আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
একসময় আবহমান বাংলার ঐতিহ্য আর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিলো নৌকা বাইচ। সভ্যতার বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীন এ উৎসবটি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ভেরামারা ব্রীজ সংলগ্ন ঘাঘট নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাইচ উৎসব দেখতে নদীর দু’পাড়ে ঢল নামে হাজারও দর্শনার্থীর। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায়
এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ।
গাইবান্ধা ভেরামারা ঘাঘট নদী নৌকাবাইচ উদযাপন কমিটিসহ স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে ও মো. আমির আলীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসময় নৌকা বাইচ দেখতে ঘাঘট নদী দু’পাড়ে জমে হাজারো মানুষের উপচেপড়া ভীড়।
নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. ইউনুছ আলী দুখুর সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতা পূর্ব এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আল হাসান ও বিশিষ্ট তরুণ সমাজসেবক প্রকৌশলী শামীম প্রামানিক বাদল। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, খোলাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাছুম হক্কানী, চেম্বার অব কমার্স পরিচালক খন্দকার জাকারিয়া আলম জীম, ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ আলী, নাট্যজন ব্যক্তিত্ব আলমগীর কবির বাদল, আমিনুল ইসলাম লিটন, মো. এনামুল হক, হায়দার আলী, মো. সেলিম প্রামাণিক, আব্দুর রহমান প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উদ্যোক্তাদের অন্যতম আল আমিন ও স্বপন প্রামানিক।
এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ২০টি নৌকা অংশ নেয়। বাইচ প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ মেডিকেল সার্বক্ষনিক ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করে।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে প্রথম বিজয়ীকে ১০০ সিসি একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় বিজয়ীকে একটি ফ্রিজ ও তৃতীয় বিজয়ীকে একটি এলইডি টিভি তুলে দেয়া হবে। এছাড়া বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকে শান্তনা পুরস্কারও দেয়া হবে। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছরই একই স্থানে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, এ প্রতিযোগীতা দেখতে সকাল থেকেই হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ সব বয়সি মানুষের উপস্থিতিতে ঘাঘটের দ’পাড় মুখরিত হয়ে ওঠে। উদ্বোধনের সাথে সাথে বাইচের নৌকাগুলো বাদ্যের তালে তালে বৈঠা মেরে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে চলে। নৌকার গতি আর মাঝি-মাল্লাদের ছন্দোবদ্ধ বৈঠা চালানোর দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। বৈঠার তালে তালে জেগে ওঠে ছন্দ-আনন্দ আর দর্শকদের উল্লাস ও করতালি এ প্রতিযোগিতার আনন্দের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাড়িতে বাড়িতে চলে মেয়ে-জামাই আত্বীয়-স্বজনসহ অতিথিদের জন্য হরেক পদের খাবারের আয়োজন। উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীপাড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।
জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল প্রমান করে এ উৎসবটি কতটা জনপ্রিয়। বিলুপ্তপ্রায় নৌকা বাইচ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। গ্রামীণ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।
বাইচ উৎসব দেখতে আসা সুন্দরগঞ্জের হরিপুর গ্রামের রকিব উদ্দীন বলেন, ক’জন মিলে একটি নৌকা ভাড়া করে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। দুপুরের খাবারের আয়োজনও ছিলো নৌকাতেই। গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি।
গাইবান্ধার মোল্লারচর ইউনিয়নের আফজাল হোসেন বলেন, একসময় প্রতিবছর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। যা ছিলো গ্রামের মানুষের বিনোদনের অংশ। এ বিনোদন আর ঐতিহ্য হারাতে বসেছিলো। এখানকার নৌকাবাইচ আয়োজনকদের স্বাগত জানাই। প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক এমন প্রত্যাশা কামনা করি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com