আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধায় ইটভাটার আগ্রাসন আর বাসা বাড়ী নির্মানের ভরাট কাজে ক্রমেই কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। ধান কাটা মাড়াইয়ের পর মাঠ ফাঁকা হলেই বেড়ে যায় মাটি খেকোদের তৎপরতা। শুরু হয় জমির টপ সয়েল কাটার মহোৎসব। এতে করে কমছে আবাদি জমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। হুমকীর মুখে পড়ছে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা।
জানা যায়, ইটভাটার কাঁচামাল আর অপরিকল্পিত নির্মাণকাজে প্রতিদিনই গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় কেটে নেওয়া হচ্ছে আবাদি জমির টপ সয়েল। ধান কাটার পর মাঠ ফাঁকা থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণীর অসাধু মাটি ব্যবসায়ী চক্র। কেউ কাঁচা টাকার লোভে, কেউ আবার পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন নিজের জমির উর্বর মাটি। এতে এক জমির ক্ষতির প্রভাব পড়ছে আশপাশের সব জমিতে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরে যে জমিগুলোতে ভালো আবাদ হয়েছিল সে জমিগুলোতে এখন তেমন হচ্ছেনা ফসলের চাষ। ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারণে জমির উপরের উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় জমিগুলোর এখন বেহাল দশা।
জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মধ্যে কঞ্চিপাড়া গ্রামের কৃষক হামিদ আলী জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রথমে কয়েকজন কৃষকের সাথে মোটা টাকায় মাটি কেনার চুক্তি করেন। জমির মাটি কেটে নেয়ার পর জমি নীচু হয়ে যায়। ফলে আশেপাশের জমিগুলো উঁচু হয়ে হারিয়ে ফেলে পানি ধারণ ক্ষমতা। এ কারণে বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করেন অন্য কৃষকরাও। এভাবে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। হুমকীর মুখে পড়ছে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা।
সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান জানান, দিন রাত ইটভাটায় মাটির জোগান দিয়ে গিয়ে এলাকার সব জমির মাটি প্রায় শেষ করা হচ্ছে। মাটি কেটে সাবাড় করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ফসলি জমির উপরিভাগের এই টপ সয়েল শস্য উৎপাদনের প্রাণ। এভাবে টপ সয়েল কাটা চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যতে গাইবান্ধার খাদ্য নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। জমির টপ সয়েলে থাকে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান, অণুজীব ও পুষ্টি উপাদান, যা ফসল উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এই টপ সয়েল তুলে ফেললে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। টপ সয়েল বিক্রি বন্ধে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন জানান, আইন অনুযায়ী ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টপ সয়েল কাটা ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও দলবদ্ধভাবে মাটি কাটার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাইবান্ধায় কৃষি আবাদি জমির পরিমাণ রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১০ হেক্টর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, টপ সয়েল বিক্রি করা জমিতে স্বাভাবিক চাষাবাদ ফিরতে সময় লাগে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ বছর। তাই কৃষি নির্ভর এই জেলার টপ সয়েল রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com