আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুরে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। এসব ট্রাক্টর দিন-রাত আঞ্চলিক সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের অলিগলি রাস্তা ব্যবহার করে কৃষি জমির মাটি বহন করছে ইটভাটায়।
ফলে রাস্তাগুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ধুলোময় পরিবেশে পরিণত হচ্ছে। প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবী, এসব অবৈধ যান প্রকাশ্য চলাচল করলেও অদৃশ্য কোনো কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এক শ্রেণীর মাটি ব্যবসায়ী অল্প পুঁজিতে বেশী লাভের আশায় প্রায় একমাস ধরে কৃষি জমি থেকে মাটি কাঁটার মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। এসব মাটি ট্রাক্টর দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কসহ গ্রামের অলিগলি রাস্তা ব্যবহার করে ইটভাটাগুলোতে বহন করছে। সরকারী ভাবে এসব ট্রাক্টর জমিতে চাষাবাদ করার অনুমোদন থাকলেও অসাধু মালিকগণ ট্রলি জুড়ে দিয়ে মাটি বহনের কাজে ব্যবহার করছে। সক্ষমতার চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি মাটি বহন করায় আঞ্চলিক সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের অলিগলির পাকা রাস্তাগুলোর পিচ উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁচা রাস্তাগুলোও খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাটি বহনের সময় উড়ন্ত ধুলাবালিতে ডেকে আনছে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়। এসব ট্রাক্টর চালকদের প্রশিক্ষণ দুরের কথা নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে দূর্ঘটনায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলেও সহজেই পাড় পেয়ে যাচ্ছে চালকরা। স্থানীয়দের দাবী, এমন চিত্র জেলার ৭ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের।
স্থানীয়রা আরও দাবী করেন, বৃহস্পতিবার
(১১ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজিরধরণী বাড়ী (পূর্বপাড়া) গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন জনৈক নাল্টুর বাড়ির সামনে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের সাথে একটি মোটরসাইকেলের দূর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আতিয়ার রহমান (৫৫) গূরুতর আহত হন। দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ট্রাক্টর চালক পালাতে সক্ষম হলেও ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাক্টরটি আটক রাখে। এরপরও থেমে নেই বেপরোয়া গতির এই যন্ত্রদানব নামের ট্রাক্টরের চলাচল। আহত আতিয়ার রহমান ওই গ্রামের মৃত আনছার আলীর পুত্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক মাটি ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সব কিছু ম্যানেজ করেই মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। রাস্তাগুলোর বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে বলেন, গাড়ী চলাচল করার জন্যই সরকার রাস্তা করে দিয়েছে। ভেঙ্গে গেলে আবার নতুন করে করবে।
রাস্তার পাশের একাধিক বাড়ির মালিক বলেন, ধুলোবালিতে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। কার কাছে গেলে স্বস্তি পাব এমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলে বাঁধা দিতে গেলেই হুমকীর শিকার হতে হয়।
এলাকার বিজ্ঞজনরা বলছেন, কাগজপত্র ও রোড পারমিট ছাড়া অনুমোদনহীন ট্রাক্টরগুলো লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্ত চালক দিয়ে চালানোর কারনেই এ ধরণের দূর্ঘটনা ঘটছে। ফিটনেস বিহীন এবং দক্ষ চালক ছাড়া কোন ভাবেই যেন যানবাহন রাস্তায় নামতে না পারে এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন আরও কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।
লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ওই সব ট্রাক্টর বন্ধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তাই প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com