আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধায় আদালতে সন্তান উদ্ধারের মামলা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত প্রতিপক্ষ কর্তৃক মিথ্যা ঘটনার নাটক সাজিয়ে আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের, অভিযোগ ভুক্তভোগী বাদী খালেক মিয়ার। ভুক্তভোগী খালেক মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার উজির ধরণী বাড়ী গ্রামের মৃত সাহেব উদ্দিনের পুত্র। ভুক্তভোগী খালেক মিয়ার অভিযোগ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাজিবপুর গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে প্রতিপক্ষ হাছনা হেনার সাথে বিগত ১১-০২-২০২২ইং তারিখে তার বিয়ে হয়। ঘর সংসার করা কালে রাফসান আহম্মেদ নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। ঘর সংসারের এক পর্যায়ে সাংসারিক মনোমালিন্যের কারণে হাছনা হেনা নাবালক সন্তান রাফসান আহম্মেদকে নিয়ে পিতার বাড়িতে অবস্থান করে।
এমতাবস্থায় পুত্র রাফসান আহম্মেদকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত প্রতিপক্ষ হাছনা হেনা জনৈক ভূঁইফোড় টাউটবাজের অপতৎপরতায় মিথ্যা ঘটনার নাটক সাজিয়ে গত ২৮-১২-২০২৫ইং তারিখে ফৌঃকাঃবিঃ আইনের ১০৭/১১৭ (সি) ধারায় একটি হয়রাণীমুলক মামলা (নং ১১২০/২৫) দায়ের করেন। যা মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মানহানিকর। এ দিকে, দায়েরকৃত এ মামলার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় ঘটনার বিবরণের বিষয়-বস্তু, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন ও যুক্তি-তর্ক নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলাবলি করছেন, আঃ খালেক একজন সহজ সরল এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি। তাদের প্রশ্ন, বাদী হাছনা হেনার দায়েরকৃত ১১২০/২৫ নম্বর মামলায় আঃ খালেকের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে আত্মীয় উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত পক্ষে আসল সম্পর্ক কি বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা উচিত ছিল। মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে প্রতিপক্ষগণের বাড়ীর সামনে ইউপি পাকা রাস্তার উপর।
এটি কোন ইউনিয়ন পরিষদের পাকা রাস্তা? বা কত নম্বর রাস্তা মামলার বিবারণে তা উল্লেখ নেই। মামলার বাদী হাছনা হেনা ঘটনার দিন বাড়ী থেকে অটোরিকশায় কোন স্থানীয় বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলন সে বাজারের নামও মামলার বিবারণে উল্লেখ করা হয়নি। তবে মামলার বিবারণ মতে অনেকের ধারণা এটি হতে পারে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কাযালয় সংলগ্ন থেলথেলির বাজার। ইউপি পাকা রাস্তার উপর বলতে ইউপি সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে মোড়ের পাকা রাস্তা বুঝায়। প্রকৃত পক্ষে এটি যদি ঘটনাস্থল হয় তবে এখানে প্রতিপক্ষগণের কোন বাড়ীঘর নেই। প্রতিপক্ষগণের বাড়ি এ ঘটনাস্থল হতে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার দক্ষিণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার উজিরধরণী বাড়ী গ্রামে। ইউপি পরিষদ সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওই মোড়টি যদি ঘটনাস্থল হয়, তবে যেহেতু এটি বাজার এলাকা এবং সব সময় লোকজনের সমাগম লেগে থেকে এমন স্থানে প্রতিপক্ষ আঃ খালেক সঙ্গীয় ৪/৫ নিয়ে হাছনা হেনাকে কি ভাবে আক্রমণ করতে পারে, বিষয়টি বোধগম্য নয়।
আক্রমণের সময় প্রতিপক্ষ আঃ খালেকগং এর হাতে যদি লাঠি সোডাসহ দেশীয় অস্ত্র থেকে থাকে তবে হাছনা হেনা পারতেন সাক্ষীগণসহ বাজারের উপস্থিত লোকজন নিয়ে তাদেক আটক দিয়ে থানা পুলিশে দিতে কিংবা ইউপি কার্যালয়ে সোপর্দ করতে। কিন্তু তিনি এটি করেননি। প্রতিপক্ষ আঃ খালেকগং এর আক্রমণের শিকার হয়ে হেছনা হেনা যদি চিৎকার দিয়ে থাকেন তবে তার এ চিৎকারে বাজারের অসংখ্য লোকজন এগিয়ে আসার কথা। সেখানে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থল থেকে পূর্ব দিকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনার স্বাক্ষী বাদী হাছনা হেনার মা বিলকিস বেগম, সহোদর ভাই বিপ্লব আকন্দ, ঘটনাস্থল থেকে সামান্য দক্ষিণে প্রায় ১শ’ ফিট দুরুত্বে থাকা স্বাক্ষী জাহিদুল ইসলাম ও সঞ্জু মিয়া জানলেন কি করে? অথচ এই ১শ’ ফিটের মধ্যে আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজন রয়েছে তাদেরও বিষয়টি জানার কথা।
এও প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে বাদী হাছনা হেনাকে বহনকারী অটোরিকশা চালক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে প্রধান স্বাক্ষী হবার কথা সেখানে হাছনা হেনার দায়েরকৃত অপর একটি মামলা (নং ২৫/২০২৪) এর স্বাক্ষী জাহিদুল ইসলাম আবারও ১১২০/২০২৫ নং মামলার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্বাক্ষী হবার নেপথ্যে রহস্যই বা কি? যেখানে ঘটনা ঘটার ২/৩ দিনের মধ্যে মামলা করার কথা সেখানে ৮দিন পর মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি যদি সত্য সত্যিই ঘটে থাকে তবে বাদী হাছনা হেনা পারতেন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা নিজ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে ঘটনার বিষয়ে অবগত করতে। অথচ বিষয়টি তারাও জানেন না। ঘটনাস্থল সংলগ্ন ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া ও ইসমাইল হোসেন জানান, এখানে ওই দিন হাছনা হেনার সাথে এমন ধরণের কোন ঘটনা ঘটার বিষয় আমরা জানি না বা কারো মুখেও শুনি নাই।
ঘটনার ৩ নং স্বাক্ষী সঞ্জু মিয়া জানান, ঘটনাস্থলের পাশেই আমার দর্জির দোকান। আমি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা। মামলায় আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে এ বিষয়ও আমি অবগত নই। ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য সাজু মিয়া জানান, পরিষদ সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে হাছনা হেনার সাথে কখন, কোন সময়, কার সাথে কি বিষয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছে কিছুই জানিনা । কেউ এ বিষয়ে আমাকে অবগতও করেনি। ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান জানান, যদি ঘটনাস্থল পরিষদ সংলগ্ন রাস্তার মোড় হয়ে থাকে তবে বিষয়টি বাজারের লোকজন তথা আমার জানার কথা। এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেনি। আমি কিছুই জানিনা। সচেতন মহলের মন্তব্য, পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সঠিক তদন্তে বেড়িয়ে আসবে ঘটনার আসল রহস্য। সেই সাথে ঘটবে সৃষ্ট ঘটনার সু্ষ্ঠু সমাধান।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com