আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চলছে ইরি-বোরো মৌসুম। এবারে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৩শ’ ৯৭ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বীজতলা স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ১হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। চারা রোপনও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে গতবারের তুলনায় শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি পেলেও সার সংকট না থাকা এবং নির্বিঘ্ন সেচ ব্যবস্থা চালু থাকায়
বিগত বছরগুলোর মতোই বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, আগাম চারা রোপণ করা হলে ক্ষেতে ফসল ভালো উৎপাদন হয়। আর সারি সারি করে ধানের চারা রোপণ করা হলে পরিচর্যায় স্বস্তি মিলে। এতে রোগ-বালাই কম হয়, অন্যান্য ফসল থেকে শতকরা ২০’ভাগ উৎপাদন বেশি হয়। এবারে বীজ, সার সবকিছুর দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরি বেশি। সার ও বীজের দাম সহনীয় হলে ধান চাষ করে আরও লাভ পাওয়া যেত। তারা জানান, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে সময় মতো চারা রোপণ শুরু করা হয়েছে। রোপন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রথমের দিকে আবহাওয়া খারাপের কারণে চারার অবস্থা একটু খারাপ হলেও পরে তা কেটে গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বিগত বছরগুলোর মতোই বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীতের বিদায় বেলায় কৃষিমাঠে নেমে পড়ে জীবনের ব্যস্ততা। কুয়াশা সরে যেতেই কাদামাখা জমিতে সারি বেঁধে ব্যস্ত কৃষকরা। ঠান্ডা উপেক্ষা করে, খালি পায়ে নরম মাটিতে রোপণ করছেন সবুজ স্বপ্ন ধানের চারা। প্রতিটি চারার সঙ্গে মিশে থাকছে তাদের ঘাম, বুক ভরা আশা আর আগামী দিনের ভাতের গল্প। দূরে গাছের সারি নীরবে তাকিয়ে আছে, আকাশে রোদের মৃদু হাসি। এই মাঠেই লেখা হচ্ছে জীবনের গল্প নাম না জানা শ্রমে, নীরব সংগ্রামে, মাটির সঙ্গে মানুষের চিরন্তন বন্ধনে। সব মিলিয়ে, এ উপজেলায় শীতের বিদায় লগ্নে কৃষকের মাঠে বোরো চাষের ব্যস্ততা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনছে এবং এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান,
এবারে বাম্পার বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের কৃষি উপকরণসহ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। সঠিক মূল্যে যাতে কৃষকরা তাদের চাহিদা মত সার ক্রয় করতে পারে, সে বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ফলে এবারে সদর উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার অতিরিক্ত জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ অর্জিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এবারে কৃষকরা দেখছেন রঙিন স্বপ্ন। ধানের চারা বড় হয়ে ফসলে ভরে উঠবে তাদের গোলা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com