শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৪৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি পরিবারের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যরা গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদেরকে গান গাইতে মানা করে দেওয়া হয়েছে। বাধাদানকারীরা বলেছেন, তাদেরকে ভিক্ষা করতে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্ত মঞ্চে প্রায় ৫০ বছর ধরে গান গেয়ে সংসার চালান পরিবারের কর্তা হেলাল মিয়া। তার সঙ্গে ছেলে-মেয়েরাও থাকেন।
কিন্তু বুধবার কিছু লোক এসে তাদেরকে গান গাইতে মানা করে যায়। তারপর থেকে তাদের গান গাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।হেলাল মিয়া রোববার বলেন, বুধবার তারা প্রতিদিনের মতো গান করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েকজন এসে গান গাইতে বাধা দেন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে এখানে গান গাইতে দেওয়া হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।তিনি বলেন, তাদেরকে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কথাও বলা হয়। পাশাপাশি তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে বলেন বাধাদানকারীরা।
তবে কারা এসে বাধা দিয়েছেন তাদের তিনি চেনেন না বলেও জানান হেলাল মিয়া।সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের হেলাল মিয়ার পরিবারের মোট ১৩ জন সদস্য। এর মধ্যে নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীউপার্জনক্ষমদের মধ্যে হেলাল মিয়া, চার ছেলে ও এক মেয়ে চোখে দেখেন না। তবে তারা কারো কাছে হাত পাতেন না। গান গেয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে ১৫ জনের বড় সংসার।
হেলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে গান গেয়ে থাকেন। এটিই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস।
গান শোনে খুশি হয়ে মানুষ তাদের টাকা দেয়। প্রতিদিন এক-দেড় হাজার টাকা আয় করেন তারা। বিশেষ বিশেষ দিনে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্তও তারা আয় করেন।হেলাল মিয়ার বয়স এখন ৬৫ পেরিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গানের শিল্পী শাহনূর শাহের কাছে থেকে তিনি ছোটবেলায় সঙ্গীতের তালিম নেন। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই হাট-বাজারে গান করে বেড়ান তিনি। পরবর্তীতে সন্তানদেরকেও গান শেখান।হেলাল মিয়া বলেন, “আমরা ভয়ে এখন গান করছি না। ৫০ বছর ধরে গান গাইলেও এমন হয়নি। এখন এমন কোনো জায়গাও পাচ্ছি না যে গান গাইব। গান গেয়ে আয় করতে না পারলে আমাদের সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপি কার্যকরী কমিটির ১নং সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি হেলাল মিয়া তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন। আমি তাকে অভয় দিয়েছি বলেছি, তার আগের জায়গায় এসে গান-বাজনা করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমি পৌরসভার মেয়র থাকাকালে তাকে গান-বাজনা করার জন্যে পৌর মুক্ত মঞ্চের এক কোনায় জায়গা করে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে তিনি সেখানেই গান-বাজনা করতেন। এর আগে তিনি পৌরসভার পুকুরের উত্তর পাড়ে গান-বাজনা করতেন। আমি মেয়র থাকা কালে তাকে আমি বিভিন্ন জায়গা ইনভাইটেশন নিয়ে পাঠিয়েছি। তিনি সে সব জায়গায় সফলতার সঙ্গে গান-বাজনা পরিবেশন করে এসেছেন।তিনি একসময় ভারতীয় দূতাবাসে ও সফলতার সঙ্গে গজল পরিবেশন করেছেন। যেহেতু হেলাল মিয়া আমাকে জানিয়েছেন, আমি এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম সমাজের মুরুব্বিদের জানিয়েছি।
তারা আমাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা অবগত নন। তারা এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন।এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com