শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন: চলন্ত ক্যাম্পাসের ইতিহাস ও উত্তরাধিকার

এস. এম. নওশের   |   বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৬৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন: চলন্ত ক্যাম্পাসের ইতিহাস ও উত্তরাধিকার
১৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই যেটি প্রথম মনে আসে, তা হলো শাটল ট্রেন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে এটি এক অনন্য সংযোজন, যা শুধুই একটি পরিবহন নয়—বরং একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জগৎ, চলন্ত ক্যাম্পাসের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম ১৯৬৬ সালে। স্থান: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পাহাড়ঘেরা, জনবিরল এলাকা। শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এই স্থানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ছিল দুরূহ, প্রায় অসম্ভব। একমাত্র ভরসা ছিল সরকারি বাস অথবা ঘোড়ার গাড়ি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ড. এ আর মল্লিক। 🔰 রেলপথে বিশ্ববিদ্যালয় ড. মল্লিকের নেতৃত্বেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়—বিশ্ববিদ্যালয়গামী একটি বিশেষ ট্রেন চালু করার। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের সহায়তায় ১৯৭০ সাল নাগাদ চালু হয় এই ট্রেন সার্ভিস। শুরুতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন ও দু-একটি কোচ। শহর থেকে শিক্ষার্থীদের এনে পৌঁছে দিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটসংলগ্ন স্টেশনে। বর্তমানে এই রুটে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ৩-৪টি ট্রিপ চলে।

স্টেশনগুলো হলো: চট্টগ্রাম রেল স্টেশন → ষোলশহর → খুলশী → মুরাদপুর → জোবরা → গেইট → চবি স্টেশন 🧑‍🎓 শাটল ট্রেন কালচার এই শাটল ট্রেন কেবল বাহন নয়—এটি একটি চলন্ত ক্যাম্পাস। দীর্ঘ যাত্রার সুযোগে এখানে গড়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতি, সাহিত্য, সংগীত, হাস্যরস ও রসিকতার বিশাল ক্ষেত্র। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ‘নিজস্ব কোচ’ রয়েছে দেয়ালে দেখা যায় দেয়াললিখন, পোস্টার, কবিতা কবিতা পাঠ, গানের আসর, বিতর্ক চলে ট্রেনেই এই ট্রেনই একমাত্র জায়গা যেখানে একজন সাধারণ ছাত্র হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে গানের সুরে রাজনীতি নিয়ে তর্ক করতে পারেন। 🚧 বাধা ও চ্যালেঞ্জ শাটল ট্রেন ব্যবস্থায় রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো সংঘর্ষ, দখলদারিত্ব।

রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, স্টাফ সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটি প্রায় নিয়মিত খবরের বিষয়। ২০২২ সালে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধও থাকে শিক্ষার্থী সংঘর্ষের জেরে। এরপর রেল মন্ত্রণালয় ও চবি প্রশাসনের সমন্বয়ে তা পুনরায় চালু হয়। 🏛 ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বাংলাদেশে এই ধরনের ট্রেন সার্ভিস কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই রয়েছে। এটি শুধু একটি যাতায়াত ব্যবস্থা নয়—এটি স্মৃতি, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অংশ। বহু শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষকের কাছে এই শাটল ট্রেন মানে একধরনের নস্টালজিয়া। 🧠 তথ্যসূত্র বাংলাপিডিয়া (Banglapedia): https://en.banglapedia.org/index.php/Mallick,_AR → ড. এ আর মল্লিকের জীবন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.cu.ac.bd → ট্রেন রুট, স্টেশন ও যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য The Daily Star “Politics on shuttle train: A running problem” → thedailystar.net bdnews24.com “CU shuttle train services resume after suspension” → bdnews24.com Dhaka Tribune, New Age Reports → শাটল ট্রেনের সংস্কার ও ছাত্র সংঘর্ষ সংক্রান্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের ব্লগ ও স্মৃতিকথা (উদাহরণ): “শাটল ট্রেন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলন্ত জীবন” – amarblog.com, somewhereinblog.net ইত্যাদি। ✍️

উপসংহার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন সার্ভিস কেবলমাত্র রেলওয়ের একটি লাইন নয়—এটি একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিকাঠামো। ড. এ আর মল্লিকের মতো দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নেতৃত্বের ফলেই সম্ভব হয়েছিল এমন একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এমন দূরদর্শী উদ্যোগ। আজও যখন সকালবেলা ট্রেন ছাড়ে ষোলশহর থেকে, কিংবা বিকেলবেলা ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের গান-গল্পে ভরে ওঠে কোচগুলো, তখন বোঝা যায়—এই ট্রেন কেবল রেল নয়, এটি স্মৃতি ও সংগ্রামের এক প্রতীক।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com