শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চবিতে প্রাণনাশের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় সাংবাদিক, সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম   |   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চবিতে প্রাণনাশের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় সাংবাদিক, সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি
৪৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলে অবৈধভাবে সিটে অবস্থানের সংবাদ প্রকাশ করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সাংবাদিক সাবিত বিন নাছিমকে হুমকি দেন অভিযুক্ত অমিত হাসান। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বাংলাবাজার পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সাবিত বিন নাছিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি “অনুমোদন ছাড়া কলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা থাকছেন বিজ্ঞান অনুষদের হলে” শিরোনাম সহ অন্যান্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে উক্ত বিষয়ে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে অনুমোদন ছাড়াই অবস্থান করা তিনজন শিক্ষার্থীর তথ্য উঠে আসে। সংবাদটি প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত শিক্ষার্থীদের তিনজনের মধ্যেকার একজন হলেন ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ অমিত হাসান, যিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সিট বরাদ্দ ছাড়াই শাহ আমানত হলের এক্সটেনশন ভবনের বি-৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং কি ইতিপূর্বে হল সংসদের সদস্যরাও তাকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে হলে অবস্থানের কারণে হল থেকে বের করে দিয়েছিল।

সংবাদ প্রকাশের পর অমিত হাসান সাংবাদিক সাবিত বিন নাছিমের কক্ষে ক্ষুব্ধ অবস্থায় গিয়ে একাধিকবার তাকে খুঁজে বেড়ান। কক্ষে সাংবাদিক সাবিত বিন নাছিমকে না পেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন গ্রুপে তাকে মারধরের হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত একাধিক স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। একটি গ্রুপে দেওয়া বার্তায় অমিত হাসান লেখেন, “হল হয়তো আমার ছেড়ে দেওয়া লাগবে কিন্তু এরে (সাবিত বিন নাছিম) সহজে ছাড়বো না।” একই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “দেখবো কার হেডাম আছে ওর (সাবিত বিন নাছিম) বাঁচানো।” অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাবিত বিন নাছিম গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় “চবির বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শাহ আমানত হলে ‘কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অবস্থান: হল সংসদের ক্ষোভ’ শীর্ষক একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ অমিত হাসান আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এবং এই সংক্রান্ত হুমকি-ধামকির বার্তাও সে নানান জায়গায় অকপটে প্রচার করে যাচ্ছে। এর কিছু স্ক্রিনশট আমার কাছেও এসেছে।

এমতাবস্থায় আমি মারধর ও প্রাণনাশের ঝুঁকিতে রয়েছি। আমি শঙ্কিত, আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করি।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণমাধ্যমকে জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটা ছাত্র আমার শিক্ষার্থী। গণমাধ্যম কর্মী আমার একজন শিক্ষার্থী, আমার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে যেভাবে চিন্তা করার দরকার আমি সেভাবেই চিন্তা করে ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ অমিত হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে ক্যাম্পাস গুলোতে ছাত্রলীগের মতো যদি ভিন্ন নামে বা ভিন্ন ব্যানারে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com