শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চরভদ্রাসন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ গুলো যেন জন্মনিবন্ধন সনদ বেচাকেনার হাট

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:   |   মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৮৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চরভদ্রাসন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ গুলো যেন জন্মনিবন্ধন সনদ বেচাকেনার হাট
৩২

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে জন্মনিবন্ধন সনদ কেনাবেচা। মাত্র তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কেনা যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ সনদ, তাও আবার উপজেলার যে কোনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। যত খুশি ততো। টাকা পরিশোধের এক থেকে সাত দিনের মধ্যেই হাতে চলে আসছে জন্মনিবন্ধন সনদ।

অভিযোগ রয়েছে, এ জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত কিছু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা। তারা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে এমন ব্যক্তিদের জন্মসনদ তৈরি করে দিচ্ছে, যাদের জন্ম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তো দূরের কথা ওই উপজেলাতেই নয়।

জালিয়াতি করে তৈরি করা এমন অন্তত পাঁচজনের জন্মনিবন্ধন সনদ রয়েছে। যা ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র, এমনকি পাসপোর্টও তৈরি করেছেন কেউ কেউ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ও কম্পিউটার দোকানিদের সমন্বয়ে গঠিত গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়ন্ত্রণ হয় জন্মনিবন্ধন সনদ কেনাবেচা। গ্রুপ সদস্যদের মধ্যে একেকটি জন্মনিবন্ধন সনদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় কেনাবেচা হলেও, গ্রাহক পর্যায়ে তা বিক্রি হয় তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা/

, জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের আলাদা ইউজার আইডি রয়েছে। ওই আইডির পাসওয়ার্ড শুধুমাত্র তারা ছাড়া অন্য কারো জানার কথা নয়। তারা যদি চান তবেই অন্য কেউ জানতে পারবেন তাদের পাসওয়ার্ড। আর তাদের ইউজার আইডিতে কাজ করার ক্ষেত্রেও দ্বি-স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ ইউজার লগইন করার সময় প্রথমে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিতে হয়। লগইন করতে গেলে তাদের মোবাইলে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠানো হয়। ওটিপি নম্বর দিয়ে লগইন করে তারপর কাজ করতে হয়। আবার যে কেউ চাইলেই তাদের ইউজার আইডিতে ঢুকে সহজে কাজ করতে পারবে না। কারণ কিছুক্ষণ পরপরই লগ আউট হয়ে যায় তাদের ইউজার আইডি। প্রতিবার লগ আউট হওয়ার লগইন করার সময় মোবাইলে নতুন ওটিপি নম্বর আসে। ওটিপি কোড দিয়ে আবার লগইন করে কাজ করতে হয়।

তবে জন্মনিবন্ধন তৈরির অধিকাংশ কাজটিই ইউপি সচিব করে থাকেন। তিনি জন্মনিবন্ধনের জন্য নাগরিকের আবেদনপত্র গ্রহণ করেন। আবেদনকারীর প্রদত্ত তথ্য, যেমন—জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি যাচাই করেন। প্রয়োজনে জন্মের প্রমাণ চাওয়া হয় (হাসপাতালের সনদ, মিডওয়াইফের রেকর্ড, ওয়ার্ড সদস্যের সুপারিশ ইত্যাদি)। জন্মনিবন্ধন সফটওয়ারে প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করেন এবং জন্মনিবন্ধনের খসড়া তৈরি করেন। সবশেষ আবেদন যাচাই শেষে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করেন এবং এটি ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমোদনের জন্য পাঠান। ইউপি চেয়ারম্যান সচিবের প্রস্তুত করা জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই করে তাতে অনুমোদন দেন। এটি সাধারণত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘অ্যাপ্রুভ’ করার মাধ্যমে হয়ে থাকে। কখনো কখনো প্রিন্ট করা জন্ম নিবন্ধন সনদে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় (যদি সনদটি হাতে লেখা বা স্থানীয় ব্যবস্থায় তৈরি হয়)।

এজন্য ইউপি সচিবের যোগসাজশ ছাড়া জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল। জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সনদ যখন বাণিজ্যের পণ্য হয়ে ওঠে, তখন প্রশ্ন ওঠে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে! হাজার টাকায় তৈরি করা এসব সনদ ব্যবহার করে একজন অপরাধীও পেতে পারে নতুন পরিচয়। এতে চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে জাতীয় নিরাপত্তা। তাই এ জালিয়াতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সচেতন মহলের।

জালিয়াতি করে জন্মসনদ তৈরির বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বলেন, জালিয়াতি করে জন্মসনদ তৈরির বিষয়ে আমার জানা ছিল না। ফরিদপুরে যদি কেউ এ ধরনের অপরাধ করে থাকে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com