শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম

মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধি   |   সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম
৩৫

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের যুবক আঃ করিম। একের পর এক ফল চাষে সাফল্য পেয়ে তিনি এখন এলাকায় পরিচিত ‘ফল চাষী মালটা করিম নামে। বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে এক উদাহরণ—একটি ব্র্যান্ড। প্রান্তিক চাষী করিম ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—“স্বনির্ভর হবো, মানুষের জন্য কিছু করবো।” জীবনের চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি নয়, তিনি বেছে নেন মাটিকে। শিক্ষা ও স্বপ্ন মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের পথ। মাল্টা চাষে প্রথম পদক্ষেপ—এক বিঘা জমি নিয়ে শুরু।বেলাল জানান— ১১ বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন। বাগানের ভেতরে কুল ও পেয়ারা লাগিয়ে গড়ে তোলেন মিশ্র ফলের বাগান। প্রায় ৪০ শতকে মাল্টা, বাকিটায় চায়না লেবু ও আম লাগিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়। প্রথম তিন বছর ভালো ফলন আসে । কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। এক বিঘা জমি বদলে দিল জীবন ১১ বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকা, আর আয় হয়েছে ৪০/ ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

চলতি মৌসুমেও মাল্টা ও চায়না লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। করিমের প্রত্যাশা—এবারও আয় হবে অন্তত কয়েক লাখ টাকা। তার প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন মালটা” এখন শুধু করিম নয়, এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা। করিম বলেন,শুরুতে ছিল অনেক কষ্ট। দুই বছর কোনো ফলন পাইনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি। বাগানের মহিলা শ্রমিক বলে “করিম ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১০-১৫ জন নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। ,প্রবল ইচ্ছে শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়—তার উজ্জ্বল উদাহরণ করিম।

শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আদর্শ। “আঃ করিম একজন আদর্শ মিশ্র ফল চাষী। তার দেখে এলাকাব্যাপী বেকার যুবকরা ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। তিনি কৃষি ও কৃষকদের জন্য সত্যিই আইডল। মনিরামপুরের মাটি, জলবায়ু মাল্টা, লেবু, ড্রাগনসহ নানা ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। করিম নতুন পদ্ধতি ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের সাধারণ এক যুবকের এমন সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা। করিমের গল্প প্রমাণ করে—জমি কম হলেও ইচ্ছে শক্তি, জ্ঞান, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কৃষি হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান। করিম এখন ২৫ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com