মোঃ হৃদয় | সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তারপর দীর্ঘ একমাস গুরুত্বপূর্ণ কাজসহ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক কোষাধ্যক্ষ ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী। ১৮ সেপ্টেম্বর ড. রেজাউল করিমকে উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর ট্রেজারার ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রশাসনিক পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে। এদিকে শীর্ষ এই পদে কে নিয়োগে পাচ্ছেন- তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা-গুঞ্জন শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে৷ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনজন শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের আলোচনায় এগিয়ে আছেন।
তারা হলেন বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, ড. ইমরানুল হক। ট্রেজারার পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ফিন্যান্স বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। তিনি ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগে লেকচারার পদে যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তারপর ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দান করেন। ২০০৮-২০১০ সালে বিভাগে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০১৩-২০১৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি ও অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জাপানে ই বিজনেস ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন। ২০১৭ সালে ফিন্যান্স বিভাগে প্রফেসর পদে পদোন্নতি হয়। প্রফেসর হওয়ার পর ২য় মেয়াদে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য অনুষদের ডিন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সদস্য। একই সাথে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কাস অফিসে এক্সপার্ট হিসেবে হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশি বিদেশি কয়েকটি বিখ্যাত জার্নালেও তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়ার দেশ ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ৩০ টি প্রবন্ধ রয়েছে। এছাড়া ‘Sustainable Banking and Sustainable Finance’ নামে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের বই রচনা করেছেন তিনি। ট্রেজারার পদে আলোচনায় থাকা আরেক শিক্ষক হলেন অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
এছাড়াও তিনি ডেনমার্কের অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড এন্টারপ্রেনরশিপ-এ এম.এস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ডানিডা স্কলারশিপ নিয়ে অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট-এ পি.এইচ.ডি ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন বোর্ডের মেম্বারশিপ লাভ করেন। ড. ইমরানুল হক ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ডেনমার্ক সরকারের অর্থায়নে ২ টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্টেইনেবিলিটি ল্যাবে গবেষক হিসেবেও কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে তার ৫০ এর অধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও তিনি ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস একাডেমি কনফারেন্স সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণা নিবন্ধ পরিবেশন করেন। তিনি এমবিএ ও বিবিএ ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবং মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ (প্রফেশনাল কোর্স) ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. ইমরানুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে জুলাই বিপ্লব, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।
আলোচনায় থাকা আরেক শিক্ষক হলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম কম ও বি কম পাস করেন। ২০০৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০১৯ সালে ইউনিভার্সিটি অফ উতরা মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০০ সালে কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার পদে যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। জীবনে দেশি বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালেও তার লেখা প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ২০টি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের পর বিভাগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এমবিএ (প্রফেশনাল কোর্স) ডিরেক্টর ছিলেন। ফাউন্ডিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বিলাল হোসাইন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের মধ্য থেকে একজন যোগ্য, দক্ষ ও সৎ শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্ননে সরকারী ও বেসরকারী উৎস থেকে নানান ধরণের ফান্ড এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক বিধিবি
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com